Kolkata [West Bengal], Apr 30 (ANI): BJP candidate Dilip Ghosh from the Kharagpur Sadar Assembly constituency speaks to the media over the West Bengal Assembly elections 2026, in Kolkata on Thursday. (ANI Video Grab)
বারুইপুর-কাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র। নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগে উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর। ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার এলাকাজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। এরই মধ্যে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে না-পারার অভিযোগ তুলে নিজেকে ‘হাউস অ্যারেস্ট’-এ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

রবিবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে মমতা অভিযোগ করেন, বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু কালীঘাটের বাড়ির সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে তাঁকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘আমার বাড়ির সামনে এত পুলিশ কেন? আমি কি কোথাও যেতে পারব না?’’ একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তৃণমূলের।
সোমবার সকালেও কালীঘাটে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে কড়া নিরাপত্তা বজায় ছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই নজরদারি চালানো হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাউস অ্যারেস্ট করার কোনও প্রয়োজন নেই। উনি যেখানে খুশি যেতে পারেন, পাকিস্তান বা বাংলাদেশেও যেতে পারেন। তবে যেভাবে তৃণমূলের নেতাদের ডিম ছোড়া হচ্ছে, কেউ যাতে তাঁকেও অসম্মান না করে, সেই কারণেই হয়তো পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’’
রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই তদন্তে অগ্রগতির দাবি করেছে পুলিশ। বারুইপুরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর খুনের ঘটনায় সোমবার আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর ফলে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দু’জন। পাশাপাশি আরও তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
এ দিকে মৃত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা যতই তীব্র হোক, নির্যাতিতার পরিবারের একটাই দাবি— দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। সেই দাবিকেই ঘিরে এখনও উত্তেজনা অব্যাহত বারুইপুরে।