মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ২০২৬-এর ভোটে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর কেন্দ্রে জোড়া জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পর ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ। সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া থেকে শুরু করে অবৈধ হকার উচ্ছেদ আরও আরও বেশ কিছু দৃষ্টান্তমূলত পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেওয়ার পর থেকে একের পর এক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তৎপর হয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে অন্যকম সপ্তম পে কমিশন। দায়িত্ব গ্রহণের ৯ দিনের মাথায় দ্বিতীয় বৈঠকে সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তও এদিন অনুমোদন পেয়েছে মন্ত্রিসভায়।

রাজ্যে মহিলাদের জন্য বড় ঘোষণা করল নবগঠিত সরকার। এবার থেকে শুধু শহর বা স্থানীয় রুট নয়, দূরপাল্লার সরকারি বাসেও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন মহিলারা। সোমবার নবান্নে নবনির্বাচিত সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। বিজেপি বিধানসভা ভোটের আগে তাদের সংকল্পপত্রে মহিলাদের জন্য এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের মাত্র ৯ দিনের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করার পথে হাঁটল রাজ্য।
মন্ত্রী জানান, আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা চালু হবে। দূরপাল্লার বাসেও এই সুবিধা মিলবে বলে স্পষ্ট করে দেন তিনি। তবে আপাতত বাসের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে না। বর্তমানে সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থার যে পরিকাঠামো রয়েছে, সেটিকেই ব্যবহার করা হবে। অগ্নিমিত্রা বলেন, “জুন মাসে বাজেট পেশ হবে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই নতুন বৈদ্যুতিক বাস কেনার কথা বলেছেন।”
এদিন মহিলাদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়েও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, আগামী ১ জুন থেকেই শুরু হবে এই প্রকল্প। যাঁরা এতদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পেতেন, তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এ স্থানান্তরিত হবে। তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩ হাজার টাকা পাঠানো হবে। পাশাপাশি নতুন আবেদনকারীদের জন্যও শীঘ্রই একটি পোর্টাল চালু করা হবে।

অগ্নিমিত্রা আরও জানান, যাঁরা সিএএ-র জন্য আবেদন করেছেন বা ট্রাইবুনালে আবেদন জমা দিয়েছেন, তাঁরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। রাজ্যের ওবিসি তালিকা পুনর্বিবেচনা এবং উপশ্রেণিবিভাগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে কোন কোন গোষ্ঠীকে তালিকাভুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।
এছাড়া ‘ধর্মীয় শ্রেণিভিত্তিক সমস্ত প্রকল্প বন্ধ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ইমাম, মোয়াজ্জেম, পুরোহিতদের ভাতা বন্ধ হচ্ছে আগামী মাস থেকেই। সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা খাতে বরাদ্দ স্থগিত করে দেওয়া হচ্ছে।’ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ঘোষণা করলেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
নতুন সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্তে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।