স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : একি হল ফলতায় ভোটের আগেই ঝুঁকে গেলেন পুষ্পা ওরফে জাহাঙ্গীর খান। শুভেন্দু অধিকারী ফলতায় গিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ভোটের পর সব হিসাব তিনি বুঝে নেবেন। তবে কি এই হুঁশিয়ারির পরেই খারাপ সময়ের আন্দাজ করেই আগেভাগেই সুরক্ষা নিতে দৌড় জাহাঙ্গীরের। ফলতায় ভোটের আগেই গ্রেফতারির আশঙ্কা করছেন ফলতার অলিখিত ত্রাস। তবে কি ভোটের পরেই পাততাড়ি গোটানোর ছক কষছেন আগেভাগেই। শুভেন্দু অধিকারী খোঁচা খেয়ে পুষ্পা থেকে নিজেকে বাঘ বলে মন্তব্য করে বলেছিলেন, দুপা পিছনো মানে হেরে যাওয়া নয় । তাহলে রাতারাতি কী হল জাহাঙ্গীরের। তাঁর ডানহাত গ্রেফতার হতেই কি বেড়েছে আশঙ্কা…..

নির্বাচনের আগে থেকেই ফলতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এসআইআর-এর সময় থেকেই ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে একাধিক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিল। অভিযোগ ছিল, বিএলও-র ওপর চাপ তৈরি করে মৃতদের নাম এসআইআর-এর তালিকায় তোলানোর চেষ্টা চলছে। সেক্ষেত্রে এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের নাম উঠে আসে। জাহাঙ্গির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই এলাকায় পরিচিত। নির্বাচনের দিন তাঁর বিরুদ্ধে ইভিএমে সেলোটেপ লাগানোর অভিযোগ ওঠে। এলাকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে কমিশন উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট অজয় পাল শর্মাকে ফলতার বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করে। যিনি উত্তরপ্রদেশে ‘সিঙ্ঘম’ নামে পরিচিত। জাহাঙ্গিরের বাড়িতে এসে তিনি সতর্কও করে আসেন সিঙ্ঘম। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়।
শুরু হয় সিঙ্ঘম বনাম পুষ্পার চ্যালেঞ্জ! কারণ সে সময়ে জাহাঙ্গির সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেছিলেন, অজয় পাল শর্মা যদি সিঙ্ঘম হন, তাহলে তিনিও পুষ্পা! তাঁর কথায়, ‘পুষ্পা ঝুকেগা নেহি!’ ভোটের দিন ফলতায় একাধিক বুথে ইভিএমে-এ সেলোটেপ লাগানোর অভিযোগ ওঠে। সেক্ষেত্রে কমিশন গোটা ফলতা বিধানসভাতেই পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করে। ২১ মে নির্বাচন, ২৪ মে ফল ঘোষণা। তবে নির্বাচনের পর থেকে ফলতায় দেখা মেলেনি জাহাঙ্গীরের। আর বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে এক এক মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। কয়েকদিন আগেই পুলিশি নিরাপত্তায় বাড়িতে ফিরে এসেছেন জাহাঙ্গীর। তবে পুরোদমো প্রচার করতে দেখা যায়নি তাঁকে। ফলতায় এখন বদলের হাওয়া। বিজেপি প্রার্থীর প্রচারে মানুষের ভিড় বাড়ছে। অন্যদিকে ভোটের আগে ফলতায় এসে জাহাঙ্গীরকে ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্থানীয় ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি।
আর মুখ্যমন্ত্রী এই ওপেন চ্যালেঞ্জের পরই গ্রেফতারের ভয় পাচ্ছেন জাহাঙ্গীর। তড়িঘড়ি রক্ষাকবচ পেতে তিনি দৌড়ে গেলেন হাইকোর্টে। জাহাঙ্গির খানের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এবং তাঁকে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে বেশ কয়েকটি মিথ্যা এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের হাত থেকে নিজের আইনি সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। প্রবীণ আইনজীবী কিশোর দত্ত এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং মামলার গুরুত্ব বিচার করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। গত শুক্রবার গভীর রাতে এক গোপন অভিযান চালিয়ে ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুল খানকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে ফলতা থানার পুলিশ। ধৃত সাইদুল খানের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা এবং রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর মতো একাধিক মারাত্মক ও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সাইদুল ফলতায় জাহাঙ্গীরের ডান হাত নামেই পরিচিত ছিল। তাই কি আগেভাগে সুরক্ষা পেতে আদালতে ছুটলেন জাহাঙ্গীর।