‘ভোটচুরি’ হলে আইনও অবৈধ! জ্ঞানেশ কুমারকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে ইস্তফা দাবি রাহুলের, পাল্টা বিজেপির ‘হতাশ নেতা’ কটাক্ষ

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে আরও সুর চড়াল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, ভোট চুরি হচ্ছে। আর ভোটই যদি সুরক্ষিত না থাকে, তা হলে সেই ভোটের ভিত্তিতে তৈরি আইন এবং প্রতিষ্ঠানগুলির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
রাহুলের দাবি, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই একাধিক আপত্তি উঠলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে ‘দেশদ্রোহী’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। কংগ্রেসের বক্তব্য, গণতন্ত্রকে ধ্বংস হতে দেখে তারা চুপ করে থাকবে না।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন রাহুল। তাঁর প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও রাজনৈতিক দল কী ভাবে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে এতটা নিশ্চিত হতে পারে? তাঁর যুক্তি, গণতন্ত্রে ‘অ্যান্টি-ইনকমবেন্সি’ বা ক্ষমতাবিরোধী হাওয়া একটি মৌলিক শক্তি।
রাহুল বলেন, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর ইন্দিরা গান্ধীর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠেছিল। কিন্তু এক-দুই বছরের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতাবিরোধী হাওয়া তৈরি হয়েছিল। একই ভাবে বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলিও ক্ষমতাবিরোধী জনমতের মুখে পড়েছে বলে তাঁর দাবি। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের উদাহরণও দেন তিনি।
রাহুলের বক্তব্য, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কংগ্রেস ‘ভোটচুরি’র অভিযোগে পৌঁছেছে। তাঁর কথায়, ‘‘ভোট থেকে সংবিধানের ক্ষমতা আসে। সংবিধান থেকে আইন, আর আইন থেকেই প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়।’’ তাই ভোটের উপর আঘাত এলে তার প্রভাব সংবিধান, আইন এবং প্রতিষ্ঠান—সব কিছুর উপর পড়ে বলে দাবি তাঁর। এই সূত্রেই তিনি ‘ভোটচুরি’ থেকে ‘কানুনচুরি’ এবং তার পরে ‘সংস্থাচুরি’র তত্ত্ব তুলে ধরেন।
রাহুলের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী সাংবাদিক বৈঠকটিকে ‘নিষ্প্রভ’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক ভাবে দেশের মানুষ গান্ধী-ভদ্র পরিবারকে বিরোধী আসনে বসিয়েছে। রাহুলকে ‘হতাশ নেতা’ বলেও আক্রমণ করেছে বিজেপি।