বিশ্বজিৎ নস্কর নিজস্ব সংবাদদাতা: জয়নগর থানার অন্তর্গত মনসাতলা এবং গৌড়বেড়িয়া হাট এলাকায় পরপর দুই দফায় আক্রান্ত তৃণমূল বিধায়ক।হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত বিধায়কের দেহরক্ষী এবং গাড়ি চালকও।ঠিক কি ঘটেছিল? কি কারনেই বা এই হামলা? হামলার পিছনে কার হাত?

বারুইপুরে দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন বারুইপুর পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বিভাস সর্দার। ভাঙচুর করা হয়েছে তাঁর গাড়ি। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। ইতিমধ্যেই সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। শরীরে একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।ঘটনায় অভিযোগের তির শাসকদল বিজেপির দিকে।গাড়িতে বোম মারা পর্যন্ত অভিযোগ আনেন বিধায়ক। যদিও সেই বোমা ফাটেনি বলেও বিধায়ক জানিয়েছেন। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। ইট পাটকেল মারা হয়।এরপর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এমনকী, তাঁকে মারধোর পর্যন্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বিধায়কের অভিযোগ, “ধোসা-চন্দনেশ্বর থেকে ফেরার সময় মনসাতলায় ৮-১০ জন গাড়ি আটকায়। পরিচয় জানতে চাইলে বিভাস সর্দারকে মেরে শশ্মানে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। তাকে বলা হয়, বড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের ভক্ত হয়েছিস। অভিযোগ,একথা বলেই একটা ইট মারা হয় গাড়ির সামনের কাচে। ওখান থেকে কোনওরকমে বেরিয়ে আসলেও গোয়ালবেড়িয়া হাটে বিজেপির ছেলেরা তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ। বুকে চড় থাপ্পড় ঘুসি মেরে বিধায়ককে মারধর ও অশ্রাব্য গালিগালাজ করার অভিযোগ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবারের নিজের দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বারুইপুর পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক। সেখানকার কাজ মিটিয়ে ফেরার সময় জয়নগর থানার মনসাতলা এলাকায় প্রথমবার তাঁর গাড়ি আটকায় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী। বিধায়ককে গাড়ি থেকে নেমে আসার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হতে থাকে। এর পরই হঠাৎ ইট নিয়ে তাঁর গাড়ির ওপর চড়াও হয় হামলাকারীরা।মনসাতলার সেই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে কোনওরকমে গাড়ি বের করে নিয়ে আসতে সক্ষম হলেও, গৌড়বেড়িয়া হাট এলাকায় পৌঁছতেই ফের বিধায়কের রাস্তা অবরুদ্ধ করে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, সেখানে বিভাস সর্দারকে কটু ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং ইট ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করা হয়। লাঠির ঘা দেওয়ার পাশাপাশি ইট ছুড়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয় বলে দাবি।
বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস করেন এবং কেন এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন এই ধরনের প্রশ্ন তুলেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে।ঘটনায় বিধায়ক বিভাস সর্দারের বাঁ চোখে গম্ভীর চোট লেগেছে। তাঁর দাবি, আঘাত অত্যন্ত গুরুতর।হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিভাস। প্রানে মারার চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি।তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি-সহ বিজেপির নেতা-কর্মীরা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ প্রসঙ্গে যাদবপুরের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মনোরঞ্জন জোদ্দারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করে জানান, বিজেপির বিরুদ্ধে কুমন্তব্য কড়াতেই সাধারন মানুষ, তাদের ওপর চড়াও হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালেও রাখা হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তা। মলার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশের তরফে।