বিশ্বজিৎ পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। ধর্ম যার যার উৎসব সবার একথা বারবার স্মরণ করিয়ে দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহর কলকাতার একাধিক বড়ো বড়ো পুজো মণ্ডপ দেখতে প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। এই ভিড় সামলাতে পুজো উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে প্রশাসনের নাভিশ্বাস উঠে যায়। সুষ্ঠভাবে দর্শনার্থীরা যাতে মন্ডপে প্রবেশ করতে পারেন, তার জন্য একাধিক ব্যারিকেড এবং গার্ড রেল দেওয়া হয় বিভিন্ন রাস্তায়। বহু বাড়ির সামনের প্রধান রাস্তা প্যান্ডেলের প্রবেশ পথ হিসেবে ঘিরে দেওয়া হয়। যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি থাকে তারাও ওই কদিন পুজোর সময় গাড়ি বার করতে গিয়ে যথেষ্ট সমস্যায় পড়েন। এছাড়াও মণ্ডপের গেট থেকে শুরু করে লাইটিং সমস্ত কিছু নিয়েই কিছু মানুষের যথেষ্ট সমস্যা হয়। এছাড়াও মন্ডপে মন্ডপে উচ্চস্বরে মাইক বাজানোর কারণে বয়স্ক মানুষদের একটা সমস্যার বিষয় হয়ে থাকে। সেই সমস্ত এলাকার মানুষরা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য বাড়ির বাইরে বেরোন, তাদেরকে ঘুরপথে যেতে হয় এবং ফেরার সময়ও একই সমস্যা। এমনকি রাস্তা পরিবর্তনের কারণে বাড়ির গেট-এর বেশ কিছু আগেই অটো, টোটো অথবা নির্দিষ্ট পরিবহণ থেকে নেমে বয়স্ক মানুষদের পায়ে হেঁটে বাড়ি যেতে হয়। যারা রিক্সায় চেপে নিত্যদিনের জরুরী কাজ মেটান, তারা রিকশা নিয়ে নিজেদের বাড়িতেও পৌঁছাতে পারেননি।

এই ধরণের সমস্যার কথা বুঝতে পেরেছেন দক্ষিণ দমদম পৌরসভার “দক্ষিণপাড়া দুর্গোৎসব কমিটি” র উদ্যোক্তারা। এর পরপরই দেখা যায় দক্ষিণ দমদমের পৌরপ্রধান শ্রীমতি কস্তুরী চৌধুরীকে। তিনি এই অনিচ্ছাকৃত হয়রানির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এলাকার মানুষের কাছে। পাশাপাশি বিজয়া-দশমী উপলক্ষে শুভেচ্ছা-বার্তা সহ কার্ড ও মিষ্টির প্যাকেট প্রত্যেক বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। পৌরপ্রধানের এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এত প্রচেষ্টার পরও প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে। আদৌ কি এর কোনো সমাধান বের করা যাবে? মায়ের আগমনে যখন গোটা শহরে এক সাজো সাজো রব, তখন প্রতি বছর পুজোর এই পাঁচটা দিনের আনন্দের মাঝে চরম অসুবিধা এবং হয়রানির শিকার হতে হয় অসংখ্য মানুষজনকে। পুজোর দিনগুলিতে বাকিরা যখন আনন্দ করে কাটান, তখন রাস্তা ঘুরে বাড়িতে ফিরতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠে কিছু মানুষের। তাঁদের মনে তখন একই কথা চলে, কবে মিটবে এই উৎসব ? কবে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো আমরা?