বিজেপি সরকারের আমলে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁধে নতুন গুরু দায়িত্ব। তবে কি এবার জার্সি বদলের অপেক্ষা। কারণ কোনও রাখঢাক না করেই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কাজের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। তাঁর স্বপ্ন কি পূরণ হতে চলেছে। তৃণমূল সুপ্রিমোর হাত ধরে রাজনীতিতে আসা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তারই উপহার পেলেন তিনি। তাহলে কবে পদ্ম শিবিরে দেখা যাবে রচনা।

সোশ্যাল মাধ্যমে একটা খুশি খুশি পোস্ট। সেখানে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন DEC (District Electricity Committee)- Chairperson হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। হুগলি জেলার DM অফিসে আমাদের প্রথম মিটিং অনুষ্ঠিত হলো। সেই মিটিংয়ের কিছু মুহূর্ত আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিলাম। আগামী দিনে হুগলি জেলার বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে কাজ করার চেষ্টা করব। অর্থাৎরাজ্য সরকারের District Electricity Committee-এর চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আগামী দিনে হুগলি জেলার বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন। ইতিমধ্যেই তারকা সাংসদ হুগলি জেলার ম্যাজিস্ট্রেটের অফিসে প্রথম বৈঠকও করেছেন। বৈঠকের পরে তিনি সোশ্যাল মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে রাজ্যসরকার তথ্যা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেছেন। বাংলায় বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই একাধিকবার রচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রশংসা শোনা গেছে। শুধু প্রশংসা দলের ভরাডুবির পরে একাধিক দুর্নীতির বিষয়ে সরব হয়েছিল রচনা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে রচনা দাবি করেছিলেন, দলের অভ্যন্তরে একাধিক নেতা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। এত দুর্নীতিগ্রস্ত দলের সঙ্গে থাকা যায় না বলেই তিনি শিবির বদলেছেন। ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতারের পর তাঁকে নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। ইন্দ্রনীল সেন ছিলেন চন্দননগরের বিধায়ক অন্যদিকে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রচনার দাবি চন্দননগরে কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে গেলে ইন্দ্রনীলের অনুমতি নিয়েই আমন্ত্রণ পেতেন।
শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রচনার সম্পর্ক খুব একটা ভালো না হলেও ইন্দ্রনীল নিয়ে দুজনেই কিন্তু এক সুরে বাজছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও ইন্দ্রনীল প্রসঙ্গে তোপ দাগতে ছাড়ছেন না। তাঁর দাবি, এরা রাজনীতি করতে আসেনি, ব্যবসা করতে এসেছে।
ইন্দ্নীল নিয়ে মন্তব্যের কারণ তো বুঝলাম। তবে আসল প্রশ্ন হল রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। কারণ ২৬ এর নির্বাচনে রাজ্যে পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গে যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ছেড়েছিলেন, তাঁদের মধ্য়ে অন্যতম রচনা। তাঁর হঠাৎ ভোলবদল নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। তিনি যে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন, তা নজর এড়ায়নি কারোরই। ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে হুগলি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের বিধানসভা পরবর্তী ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে লোকসভার বাকি ১৮ সাংসদের সঙ্গে তাঁকেও শিবির বদলে এনসিপিআই-তে যোগ দিতে দেখা যায়। সেখানে তাঁরা অধ্যক্ষের কাছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন জানিয়ে চিঠিও জমা দেন। অনেকেই বলছেন তিনি যে এখন বিজেপি মুখী হয়েছেন, তা একেবারে স্পষ্ট। আর সেই জন্যই কি তাঁকে এই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হল। এখন দেখার কবে ফুল বদল করে দাদার হাত ধরেন রচনা।