রিয়া হালদার, সাংবাদিকঃ জীবনধারা এবং পরিবেশ কীভাবে প্রাথমিক হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে জানেন, বিশেষ করে তরুণদের। আসুন আজ আলোচনা করি কতটা ঝুঁকিতে তরুণ হৃদয়।

বর্তমানে হৃদরোগের সমস্যা তরুণ প্রজন্মে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কারণ হিসেবে উঠে আসছে খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক কার্যকলাপের অভাব। আজকাল ভেজাল তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তা কম-বেশি আমরা সকলেই জানি। দুই দশকে ভারতে ভেজাল তেলের ব্যবহার তিনগুণ বেড়েছে। ২০০১ সালে ভোজ্যতেলের ব্যবহার ছিল ৮.২ কেজি। তবে বর্তমানে ২.৯ কেজি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে প্রায় ২৩.৫ কেজি হয়েছে।

এছাড়াও কোভিড, মানসিক চাপ ও দূষণের মতো কারণগুলি হৃদরোগে মুখ্যভূমিকা পালন করে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় কাজ করা, ঘুম কম হওয়া, বিশ্রামের অভাব রোগের প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। ধূমপান হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার আপনার হার্টকে দুর্বল করছে।
অলস জীবনযাপন – শারীরিক নিস্ক্রিয়তাও হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত ওজন হৃদপিণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে উচ্চ কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

এনার্জি ড্রিংকে প্রচুর ক্যাফেইন ও চিনি থাকে, যা হৃদস্পন্দন বাড়ায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি করে এবং উদ্বেগ ও ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো হার্টের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং অ্যারিদমিয়া বা অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, মানসিক সতেজতা পাওয়ার জন্য এনার্জি ড্রিংকের বদলে ফলের রস খান। কারণ , এনার্জি ড্রিংকের সাময়িক এনার্জি বা মানসিক শান্তি আসলে শারীরিক চাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় গোপনে। যা পরে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই তরুণ প্রজন্মকে এখনই এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।