মাম্পি রায়, সাংবাদিক : কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে শনিবার ভোররাতে সিআইডির তল্লাশি অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠল। তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী নেতৃত্বকে চাপে ফেলতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষের দাবি, শনিবার রাত ৩টা নাগাদ পুলিশ অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছয়। তাঁর অভিযোগ, সকাল ৫টা নাগাদ তালা ভাঙার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও ডাকা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হয় তল্লাশি। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে ছাদ পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশি শেষে বাজেয়াপ্তির রিপোর্টে ‘নিল’ বা কিছুই উদ্ধার হয়নি বলে দাবি করেছেন সাগরিকা ঘোষ। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘‘কোনও প্রমাণ নেই, কোনও বেআইনি কাজের হদিস নেই। শুধুই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ভয় দেখানো এবং মানসিক নির্যাতন।’’ তাঁর অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশ মেনে চলতে অস্বীকার করা বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
একই সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূলের লোকসভা সাংসদ কীর্তি আজাদের গলাতেও। তিনিও দাবি করেছেন, তল্লাশির পর বাজেয়াপ্তির রিপোর্টে ‘NIL’ লেখা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ।’’
শুক্রবারই সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছেছিল সিআইডির একটি দল। তার আগে বৃহস্পতিবার ভবানী ভবনে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীরা ওই মামলার সূত্র ধরেই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
এদিকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সম্প্রতি একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। কলকাতা পুলিশের হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগকারী তুষারকান্তি দাসের দাবি, গত ৯ মার্চ একটি সভায় মমতা এমন বক্তব্য রেখেছিলেন যা জনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করতে পারে।
একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর— এই দুই ঘটনাকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তৃণমূল যেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলছে, সেখানে তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।