ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। শুক্রবার রাঁচীর জয়পাল সিং স্টেডিয়ামে জেপিএসসি (ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন) এবং জেএসএসসি (ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন)-র পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত প্রার্থীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘ব্যবস্থাগত সংস্কার’-এর আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

হেমন্ত বলেন, ‘‘আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনার একটি পথ নির্দিষ্ট করেছি। কথা বলতে আমরা প্রস্তুত। প্রতিটি পড়ুয়ার সমস্যার কথা সরকার বুঝতে চায়। জয়পাল সিং স্টেডিয়ামের গণ্ডির বাইরে পড়ুয়াদের দাবিকে নিয়ে যেতে আমরা চেষ্টা করছি।’’
নিয়োগ ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করারও আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘পড়ুয়াদের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী সংস্কারের মাধ্যমে আমরা এগোতে চাই।’’
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার মধ্যেই নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেএলকেএম বিধায়ক জয়রাম মাহাতো। জেপিএসসি-র প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং জেএসএসসি সিজিএল পরীক্ষার ফলের মধ্যে যোগসূত্রের অভিযোগ তুলে তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেন।
মাহাতোর অভিযোগ, জেপিএসসি-র প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি জেএসএসসি সিজিএল পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যও ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন বলে দাবি বিধায়কের। তাঁর বক্তব্য, ওই প্রার্থীর দেওয়া সমস্ত পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিচালিত অন্যান্য পরীক্ষারও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ দিন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ান অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-র সভানেত্রী নেহা বোরাও। জেপিএসসি, জেএসএসসি সিজিএল-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলন ক্রমশ রাজনৈতিক মাত্রা পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও।
এ দিকে, জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম মঞ্চ জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য ১১ জনের প্রতিনিধি দল তৈরি হয়েছে। দলে থাকছেন আট জন পড়ুয়া প্রতিনিধি, একজন আইনজীবী এবং দু’জন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। আন্দোলনকারীদের দাবি, আলোচনা যেন সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য মঞ্চে হয়। তাঁদের অভিযোগ, আগের বার প্রতিনিধিদের বন্ধ ঘরে নিয়ে গিয়ে আলোচনা করেও কোনও সমাধান হয়নি। তাই এ বার ‘পাঁচ জনের প্রতিনিধি দল’ গঠন করে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা তাঁরা মেনে নেবেন না।