ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : আর.জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বহুল আলোচিত মামলার তদন্তে নতুন মোড় আনল আদালত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এবার থেকে মামলার তদন্তভার থাকবে সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে। একইসঙ্গে, তদন্তের স্বচ্ছতা ও গতি বাড়াতে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ঘটনার দিন রাতের খাবারের পর থেকে মৃতদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনাক্রম বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, ঘটনার ধারাবাহিকতা ও সময়ক্রম নির্দিষ্টভাবে পুনর্গঠন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কে কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল, কখন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং হাসপাতাল ও প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল—এই সমস্ত বিষয় সিবিআইকে নতুন করে বিশদে তদন্ত করতে হবে। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে মামলার প্রয়োজনীয় সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে সিবিআইয়ের।
শুনানির সময় আদালত সিবিআইকে প্রশ্ন করে, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর চার্জশিট জমা দেওয়ার পর গত এক বছর সাত মাসে তদন্তকারী সংস্থা কী কী অগ্রগতি করেছে। আদালতের এই প্রশ্নের উত্তরে সিবিআই জানায়, তারা ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আদালত তদন্তের গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
মামলাটি ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। চিকিৎসক মহল, নাগরিক সমাজ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও শুরু থেকেই নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। আদালতের নতুন নির্দেশের পর তদন্তে আরও সক্রিয়তা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে SIT গঠনের ফলে তদন্তের বিভিন্ন দিক আরও সুসংগঠিতভাবে এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আদালত জানিয়েছে, আগামী ২৫ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেই শুনানিতে সিবিআইকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করতে হতে পারে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।