বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ককে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ল সিপিএম। বুধবার মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকের ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) দপ্তর ঘেরাও করে ডেপুটেশন জমা দিল সিপিএমের কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকের একাধিক এলাকায় বহু প্রকৃত ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অভিযোগ, ‘এসআইআর’-এর নামে বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের সময় সাধারণ মানুষকে নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক নথি থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের নাম বাদ পড়ছে বলে দাবি সিপিএম নেতৃত্বের।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মিছিল করে সিপিএম কর্মী-সমর্থকেরা মগরাহাট ২ নম্বর ব্লক অফিসের সামনে জড়ো হন। লাল পতাকায় ছেয়ে যায় গোটা এলাকা। বিক্ষোভকারীরা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’, ‘ভোটার তালিকা সংশোধন করো’, ‘হয়রানি বন্ধ করো’—এইসব স্লোগানে মুখর করে তোলেন এলাকা। পরে বিডিও অফিস ঘেরাও করে তাঁদের দাবিপত্র জমা দেওয়া হয়।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মগরাহাট পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী চন্দন সাহা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষের উপর চরম অত্যাচার চলছে। প্রকৃত ভোটারদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। আমরা এই অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেব না।”
তিনি আরও বলেন, “যে সমস্ত মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের দ্রুত পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে সিপিএম।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
সিপিএমের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তাই দ্রুত নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রকৃত ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যদিকে, প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মগরাহাটে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই ধরনের বিতর্ক ভবিষ্যতে আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং এই ইস্যু আগামী নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলে।