আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সিবিআইয়ের ভূমিকা ঘিরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন, ‘‘আর কত দিন বিচার হবে না? কত দিন মানুষ অপেক্ষা করবে?’’ আদালতের পর্যবেক্ষণে কার্যত ইঙ্গিত, প্রয়োজন হলে ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফের তদন্তের পথে হাঁটতে হতে পারে।

শুনানিতে নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, গত দু’বছরে সিবিআই তদন্তে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তার স্পষ্ট ছবি আদালতের সামনে নেই। পরিবারের তরফে ভিডিয়ো-সহ একাধিক তথ্য এবং অতিরিক্ত হলফনামা জমা দেওয়া হলেও সেগুলি যথাযথ ভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এর পরেই সিবিআইকে কড়া প্রশ্ন করেন বিচারপতি শম্পা। আদালতের আগের নির্দেশের পরেই কি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে, জানতে চান তিনি। বিচারপতির মন্তব্য, সিবিআইয়ের রিপোর্টেই প্রমাণ নষ্ট এবং দেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তা সত্ত্বেও তদন্তে কেন সংশ্লিষ্ট দিকগুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি, প্রশ্ন তোলে আদালত।
ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিল, তা ফের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে আগের তদন্তের গণ্ডি ছেড়ে নতুন করে তদন্তের কথাও ভাবতে হবে। আদালতের কড়া প্রশ্ন, ‘‘এ ভাবে কত দিন মামলা বিচারাধীন থাকবে? সবাই বিচার চাইছে। আর কত দিন অপেক্ষা করবে?’’
সিবিআইয়ের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, ঘটনার আগে নির্যাতিতা এক জুনিয়র চিকিৎসকের সঙ্গে শেষ বার রাতের খাবার খেয়েছিলেন। অথচ এখনও তাঁর বয়ান রেকর্ড হয়নি। তদন্তকারী সংস্থা প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বলেও আদালতকে জানান তিনি।
তবে তাতে সন্তুষ্ট হয়নি বেঞ্চ। আদালতের মন্তব্য, এক রাতের মধ্যে ঘটনাস্থলের কাঠামো ভেঙে দেওয়া হলেও তদন্ত এখনও প্রাথমিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে—এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না।
পরিবারের আইনজীবী আরও চার চিকিৎসক এবং তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি জানান। সিবিআই জানায়, ৭ জুলাই সিটের কাছ থেকে তদন্তভার নেওয়ার পর তদন্ত চলছে। আদালত অবশ্য স্পষ্ট করে দেয়, ‘‘এটি নিম্ন আদালতের মামলা নয়। এই তদন্ত আমরা নিজেরা মনিটর করছি।’’
আগামী ২৮ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি। বুধবারের কড়া পর্যবেক্ষণের পর আরজি কর-কাণ্ডে তদন্তের গতি ও পদ্ধতি নিয়ে সিবিআইকে আরও জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।