New Delhi, Aug 01 (ANI): Aam Aadmi Party National Convenor Arvind Kejriwal addresses the public gathering during the National Town Hall Against E-20, in New Delhi on Saturday. Comedian Shyam Rangeela also present. (ANI Photo/Naveen Sharma)
ই-২০ পেট্রল নীতি নিয়ে এ বার সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পথে নামল আম আদমি পার্টি (আপ)। মঙ্গলবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দিলেন দলের জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর অভিযোগ, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপেই ভারতে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে আমেরিকা থেকে ইথানল আমদানি বন্ধ করে দেশে ‘জোর করে’ ই-২০ পেট্রল চাপানো বন্ধ করা হোক।

বিক্ষোভস্থল থেকে কেজরিওয়ালের বার্তা, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাপে না পড়া। আমেরিকা থেকে ইথানল কেনা বন্ধ করুন। আমাদের দেশে ই-২০ চাপিয়ে দেওয়াও বন্ধ করুন।’’ প্রধানমন্ত্রীকে দেখা করার জন্য বার্তা পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। কেজরিওয়ালের কথায়, ‘‘আশা করি প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন। লড়াই চলবে।’’
আপ নেতা অনুরাগ ধান্ডার অভিযোগ আরও তীব্র। তাঁর দাবি, ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির কারণে দেশের প্রায় ৩০ কোটি গাড়ি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এই নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কথা প্রধানমন্ত্রী শুনছেন না। আমেরিকার চাপে ভারতে ইথানল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে আপের অভিযোগের পাল্টা যুক্তি দিয়েছে কেন্দ্র। ই-২০ নীতি নিয়ে সমালোচনার জবাবে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের বক্তব্য, ইথানল মিশ্রণ কোনও ‘করদাতার ভর্তুকি’ নয়। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ব্যাপক ওঠানামার সময়ে ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য এটি এক ধরনের ‘এনার্জি ইনস্যুরেন্স’।
মন্ত্রকের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় ক্রুড বাস্কেটের দাম ব্যারেল-পিছু প্রায় ১৩৫ ডলারে পৌঁছলে দিল্লিতে ইথানল না-মেশানো পেট্রলের দাম লিটার-পিছু প্রায় ১২৫ টাকা হতে পারত। কিন্তু ইথানল মিশ্রণের ফলে সেই সময় গ্রাহকদের দিতে হয়েছে ৯৪.৭৭ টাকা। কারণ, প্রতি লিটার পেট্রলের ২০ শতাংশ দেশীয় ভাবে উৎপাদিত ইথানল দিয়ে মেশানো হয়েছিল, যার দাম আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব থেকে অনেকটাই মুক্ত।
কেন্দ্রের দাবি, ইথানল মিশ্রণ নীতির ফলে সঙ্কটের সময়ে প্রতি লিটারে প্রায় ৩০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হয়েছে। মন্ত্রকের যুক্তি, এর লক্ষ্য শুধু সস্তা জ্বালানি দেওয়া নয়; আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের ধাক্কা থেকে ভারতীয় গ্রাহককে রক্ষা করা, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ানো। এছাড়া বিদেশে চলে যাওয়া জ্বালানি আমদানির খরচের একটি বড় অংশ দেশের অর্থনীতির মধ্যেই রাখাটাও সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য।