Kolkata, Aug 4 (ANI): Trinamool Congress (TMC) chief Mamata Banerjee addresses party workers, in Kolkata on Tuesday. (MAMATA BANERJEE SOCIAL MEDIA/ANI Video Grab)
আর প্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃ জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের আবহে এবার আরও কাছাকাছি বিরোধীরা। নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বিতর্কের মাঝেই ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বুধবার দিল্লিতে বৈঠকে বসতে চলেছে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলি। আর সেই বৈঠকে থাকার কথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেই বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর বিরোধী দলগুলির মধ্যে আলোচনা বেড়েছে। সূত্রের দাবি, এই পরিস্থিতিতে দ্রুত বৈঠক ডাকার জন্য লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে এদিন শ্রীরামপুরের সভা থেকে জানান বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
আগামী বুধবারের বৈঠকে নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিরোধী দলগুলির পরবর্তী পদক্ষেপ, SIR প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যৌথ ভাবে কী অবস্থান নেওয়া হবে, তা নিয়েও কথা হতে পারে বলে খবর। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে তৈরি পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল এবং সিপিএমের মধ্যেও যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি বিরোধী দলগুলিকে একসঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই চিঠির পর মমতার সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়।পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এবং বামেদের রাজনৈতিক লড়াই দীর্ঘদিনের। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এবং SIR ইস্যুতে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে কিছু জায়গায় মিল দেখা যাচ্ছে।আর সেই মিলকে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের কাঠামোয় নিয়ে আসার চেষ্টা হচ্ছে বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা।
এই পরিস্থিতিতেই শনিবার শ্রীরামপুরের সভা থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, সারা দেশ ঐক্যবদ্ধ। জোটবদ্ধ। আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবেই লড়াই করব। কে লাল, কে নীল, কে হলুদ দেখার দরকার নেই। এর পরেই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রসঙ্গ।মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। এই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েই এখন জোর আলোচনা। কারণ লাল শব্দটি বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে বামেদের সঙ্গে যুক্ত। আর মমতার মুখে কে লাল, কে নীল, কে হলুদ-এই মন্তব্যকে বিরোধী দলগুলির মধ্যে ইস্যুভিত্তিক সমন্বয়ের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিকভাবে পরস্পরের বিরোধী দলগুলি কি এবার একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে একসঙ্গে এগোতে চলেছে? সূত্রের খবর, INDIA জোটের প্রস্তাবিত বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য নির্বাচন কমিশন এবং SIR। সিপিএম-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বিরোধী দলগুলির মধ্যে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে খবর। এরপর মমতার সঙ্গে তাঁর কথাও হয়। কংগ্রেসও জ্ঞানেশ কুমার এবং SIR নিয়ে সরব। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে যাঁরা একে অপরের বিরোধী, জাতীয় স্তরে নির্দিষ্ট একটি সাংবিধানিক ও নির্বাচনী ইস্যুতে তাঁদের মধ্যে সমন্বয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে বিরোধীরা ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনও বৈঠকের আগেই নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পরবর্তী রাজনৈতিক ও সংসদীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বিরোধী দলগুলি এর আগে তাঁর অপসারণের দাবিতে সরব হয়েছে। নতুন করে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টের দুই হাউসেই ইমপিচমেন্ট আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে খবর।এই পরিস্থিতিতে ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কারণ সেখানে শুধু একটি দলের বক্তব্য নয়, একাধিক বিরোধী দলের সম্মিলিত অবস্থান সামনে আসতে পারে।আর সেই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের বক্তব্যও বিশেষ তাৎপর্য পাচ্ছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর বিরোধীরা কি একটি অভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করবে?নাকি বৈঠক সীমাবদ্ধ থাকবে নির্বাচন কমিশন এবং SIR ইস্যুতে মতবিনিময়ের মধ্যে?উত্তর মিলবে দিল্লির বৈঠকের পরেই।
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে INDIA জোটের বৈঠক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি, রাহুল গান্ধী ও এম এ বেবির সঙ্গে মমতার যোগাযোগ এবং শ্রীরামপুরের সভা থেকে লাল-নীল-হলুদ না দেখে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তা-সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আলোচনা তুঙ্গে। তবে এই মুহূর্তে এটুকুই স্পষ্ট- জ্ঞানেশ কুমার এবং SIR ইস্যুতে বিরোধীদের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা জোরদার হয়েছে। এখন নজর ৩০ সেপ্টেম্বরের দিল্লির বৈঠকে। সেখান থেকে কি বেরিয়ে আসবে বিরোধীদের অভিন্ন রণকৌশল?নাকি শুধু যৌথ প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ থাকবে INDIA জোট?উত্তর দেবে আগামী কয়েকদিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ।