বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। নাম না করে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট অভিযান নিয়ে এ বার কড়া বার্তা দিল শীর্ষ আদালত। আদালতের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়ে বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা যায় না বলে স্পষ্ট করে দিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ। বিজেপি মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়ার দায়ের করা মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।

গত সোমবার ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করেছিলেন রাহুল। সেই কর্মসূচিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন গৌরব। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে বিচারব্যবস্থাকে নিশানা করা কোনও ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, “কেউ বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখাতে পারবে না।” আদালতের বাইরে কে কী বলছেন, কোথায় কী হচ্ছে, সবই বিচারপতিদের নজরে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই ধরনের আচরণকে বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার ব্যর্থ চেষ্টা হিসাবেই দেখছে শীর্ষ আদালত।
রাহুল, অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী নেতারা সোমবারের মিছিলের পরে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে স্থগিতাদেশ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তদন্ত-সহ একাধিক দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে নোটিস জারির অর্থ সংশ্লিষ্ট নেতার আচরণকে আদালত সমর্থন করছে, এমন নয় বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে ওই আচরণের ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।
এ ছাড়াও, রাহুলের বিরুদ্ধে এক মহিলা সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন গৌরব। এই বিষয়ে পৃথক আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আলাদা করে আবেদন করা হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
রাজনৈতিক বিক্ষোভ, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং বিচারব্যবস্থার মর্যাদা— তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে।