অঙ্কিতা পাল, সাংবাদিক: ১৯৮৪ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। রাজীব গান্ধী যখন তাঁকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বলেন, তখন অমিতাভ বলেছিলেন যে তিনি রাজনীতির কিছুই জানেন না। তা সত্ত্বেও অমিতাভের রাজি হওয়ার বিশেষ কিছু কারণ ছিল। সবাই একটাই কারণ বোঝেন, বচ্চন ও গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠতা।

অমিতাভ ও রাজীব তাঁদের পরিবারের বন্ধুত্বের উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অমিতাভের বাবা-মা, হরিবংশ রাই বচ্চন এবং তেজি বচ্চনের জওহরলাল নেহরু এবং ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। ইন্দিরা ও তেজির মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল।

হরিবংশ রাই বচ্চন যখন রাজ্যসভার সদস্য হন, তখন পুরো পরিবার দিল্লিতে চলে যায়। তারপর একসঙ্গেই কেটেছে রাজীব ও অমিতাভের শৈশব। শুধু তাই নয়, সোনিয়া গান্ধী যখন রাজীবকে বিয়ে করতে ভারতে আসেন, তখন তিনি বচ্চনের বাড়িতেই থেকে যান।

তাই, যখন ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করা হয়, কংগ্রেসের লাগাম রাজীবের হাতে আসে এবং তিনি সমর্থনের জন্য তাঁর সবচেয়ে পুরনো বন্ধুর প্রয়োজন অনুভব করেন। তাই অমিতাভও এড়িয়ে যেতে পারেননি।

রাজীব গান্ধী আনুষ্ঠানিকভাবে অমিতাভ বচ্চনকে এলাহাবাদ থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ঘোষণা করেন। লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী পক্ষকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। অমিতাভের জয়কে বলিউডেও সেই সময়ে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৮৭ সালে তার নাম জড়িয়েছিল আর্থিক দুর্নীতিতে। সেই সময়েই তিনি রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে, সম্প্রতি ‘কেবিসি ১৭’-তে এই নিয়ে মুখ খুলেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। রাজনীতিকে ‘কঠিন কাজ’ বলে দাবি করেছেন তিনি।

অমিতাভ বলেছেন, “আমি রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছিলাম আবেগপ্রবণ হয়ে। আমার জন্মস্থান হল এলাহাবাদ। সেখানকার মানুষ আমাকে খুবই ভালবাসতেন। আমি ভোট পেয়ে নির্বাচনে জিতেছিলাম।”রাজনীতিতে ওই অল্প দিনের অভিজ্ঞতাতেই অমিতাভ বুঝেছিলেন, ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের জীবনযাপন কেমন। অমিতাভ বলেছেন, “ওই দুটো বছর আমার জন্য খুব দামি। গ্রামের মানুষের জীবনযাপনকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম। নির্বাচনে নতুন কেউ লড়তে এলেই, ওঁরা অনেক সম্মান দেন।” কিন্তু কিছু দিন রাজনীতিতে থেকেই বুঝেছিলেন, এই কাজটি বেশ কঠিন। তাঁর কথায়, “কয়েকদিন পর থেকেই বুঝতে পারি, বেশ কঠিন বিষয় এটা। এ দিক দেখতে হবে, ও দিক দেখতে হবে, এর কথা শুনতে হবে, উত্তর দিতে হবে— নানা বিষয় রয়েছে। খুব কঠিন!”