সুচারু মিত্র, নিজস্ব সংবাদদাতা: উত্তরবঙ্গে বিপর্যয় পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে বেধড়ক মার খেয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। কার্যত রক্তাক্ত হয়েছিলেন তিনি। বেশ কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাটাচ্ছেন তিনি। একদিকে তাঁকে দেখতে ছুটে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অন্যদিকে আবার ছুটে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।


ধসে কার্যত বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, তাই উত্তরবঙ্গের মানুষের পাশে দাঁড়াতে জনপ্রতিনিধি হিসাবে গিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। কিন্তু সেখানে গিয়ে দুজনকেই আক্রান্ত হতে হয়। অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। তারাই পরিকল্পনা করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিড়ে ঢুকে গিয়ে পরিকল্পনা মাফিক খগেন মুর্মুকে আক্রমণ করে গুরুতরভাবে আক্রান্ত করেছে বলে অভিযোগ। এমন অভিযোগ তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেই ভাঙা গাড়ি এবং খগেন মুর্মুর রক্তাক্ত মুখ দেখা গিয়েছে।
খগেন মুর্মুর ওপর আক্রমণ নিয়ে ইতিমধ্যেই টুইটে ক্ষোভপ্রকাশ করতে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও। বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরইমধ্যে এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উদ্বেগও চরমে পৌঁছেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে ‘ ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হল আক্রান্ত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে। বাড়ানো হল তাঁর কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা। সবদিক বিবেচনা করেই খগেন মুর্মুর কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা বেষ্টনী বাড়িয়ে ‘ ওয়াই ‘ ক্যাটাগরি করা হল। এছাড়াও তাঁকে দেওয়া হল বুলেট প্রুফ গাড়ি। ফলে সবমিলিয়ে বিজেপির এই নির্বাচিত প্রতিনিধির ওপর এখন বাড়তি নজর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের।
আপাতত স্থিতিশীল রয়েছেন খগেন মুর্মু। তবে বাড়িতে তাকে বেশ কয়েকদিন বিশ্রামে থাকতে বলেছেন চিকিৎসকেরা। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও তার খোঁজ খবর নিচ্ছেন। কেমন আছেন খগেন মুর্মু? কিন্তু উত্তরবঙ্গে পরিকল্পনার নেপথ্যে কে? তা ইতিমধ্যেই চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। খগেন মুর্মুকে মারধরের বদলা নেবে বিজেপি এমন বার্তাও দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি উত্তপ্ত হচ্ছে। একদিকে উত্তরবঙ্গবাসীর সাহায্য করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন খগেন মুর্মু। হামলার অভিযোগ যখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগ সত্বেও তাঁকে গিয়ে সরাসরি দেখা করে কথা বলে এলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যথাযথ চিকিৎসা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন তিনি। অন্যদিকে আবার খগেন মুর্মুর নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে। সবমিলিয়ে রাজনৈতিক চাপানোতর তুঙ্গে। ২০২৬-এর ভোটে অ্যাডভান্টেজ কে নেয়, সেটাই দেখার।