রাজনীতির ময়দানে একের পর এক তোপ, পাল্টা তোপ আর ব্যক্তিগত আক্রমণ। ভারতীয় রাজনীতিতে এই ছবিটা নতুন নয়। কিন্তু যখন একই ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, রাজনৈতিক শালীনতার মাপকাঠি কি সবার জন্য এক? কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যখন বিজেপি শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তখনই অতীতের রাজনৈতিক বক্তব্যগুলিও নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে। বিশেষ করে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর পরিবারকে ঘিরে অতীতে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক আক্রমণের ক্ষেত্রে যদি বিরোধীদের ভাষা নিয়ে এত আপত্তি থাকে তা হলে শাসকদলের নেতাদের অতীতের বক্তব্যগুলিও কি একইভাবে বিচার করা হবে না?

ঘটনার সূত্রপাত বিহারের পটনায়। রবিবার বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংহের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেই সময় দর্শকাসন থেকে এক ব্যক্তির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ওই ব্যক্তি মূলত বলতে চেয়েছিলেন, বিদ্রোহ না হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব নয়। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ খাড়গের কানে পৌঁছয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি শুধু মোদী যাবেন না। এরপরই প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে খাড়গে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর প্রয়াত বাবার প্রসঙ্গ টেনে আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেন। তিনি বলেন, মোদীর বাপকেও যেতে হবে। তাঁর সেই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। খাড়গের মন্তব্যের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির একাধিক নেতা কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে সরব হন। অমিত শাহ এক্স হ্যান্ডলে অভিযোগ করেন, খাড়গে তাঁর মন্তব্যের মাধ্যমে শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর প্রয়াত বাবাকে টেনে আনা অত্যন্ত আপত্তিকর। শাহ আরও দাবি করেন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস বারবার রাজনৈতিক ভাষার সীমা লঙ্ঘন করছে। একের পর এক নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে কংগ্রেস হতাশা ও নৈরাশ্য থেকে এ ধরনের মন্তব্য করছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। বিজেপির অন্যান্য নেতারাও খাড়্গের মন্তব্যের নিন্দা করেন।
কিন্তু এখানেই উঠছে পাল্টা প্রশ্ন। অমিত শাহ যখন খাড়গের মন্তব্যের বিরোধিতা করে রাজনৈতিক শালীনতার কথা বলছেন। তখন অতীতে রাহুল গান্ধী ও তাঁর পরিবারকে ঘিরে বিজেপির বিভিন্ন নেতার মন্তব্যও কি আলোচনার বাইরে থাকবে? বিরোধীদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করা হলে বিজেপি নেতারা প্রায়ই প্রতিবাদে সরব হন। কিন্তু কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব ও গান্ধী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়, তখন সেই একই রকম সংবেদনশীলতা সব ক্ষেত্রে দেখা যায় কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। বিজেপি নেতা কৃষ্ণ কুমার সিং পটনার কোতওয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, খাড়গকে তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যদিকে, ঘটনাটির সূত্রপাত যে একটি অসম্পূর্ণ শোনা মন্তব্য থেকে হয়ে থাকতে পারে সেই ব্যাখ্যাও আলোচনায় এসেছে।
মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক এখন থেমে নেই। রাজনৈতিক নেতারা একে অপরকে আক্রমণ করতেই পারেন কিন্তু সেই আক্রমণ যেন যুক্তি, নীতি ও জনস্বার্থের জায়গাকে পুরোপুরি গ্রাস না করে। আপনার কী মত? খাড়গের মন্তব্যের বিরোধিতা করে অমিত শাহ সরব হওয়াকে কি রাজনৈতিক শালীনতার প্র