নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডকে ঘিরে ছাত্র আন্দোলন থামেনি, বরং নতুন করে সংঘাতের ইঙ্গিত মিলল। ছাত্র আন্দোলনের উপর সরকারি দমননীতি অব্যাহত থাকলে খুব শীঘ্রই দেশজুড়ে ফের বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে কেন্দ্রকে কড়া হুঁশিয়ারি ককরোচ জনতা পার্টির। বুধবার দিল্লি বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ ও ন্যায্য অধিকারের দাবিতে পথে নামা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা কোনও গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

দীপকের দাবি, ২০ জুলাই আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ করা হয়েছিল। সেই ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ওরা নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য লড়ছিল। আনন্দ করার জন্য রাস্তায় নামেনি। এত রক্ত ঝরানোর পরও যদি সরকারের মন না ভরে এবং ছাত্রদের এ ভাবে হেনস্থা করা চলতেই থাকে, তা হলে আমরা আবার রাস্তায় নামব। খুব শীঘ্রই আন্দোলন শুরু হবে।”
সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদের উপর পেলেট গান ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর প্রশ্ন, “ওরা কি সন্ত্রাসবাদী ছিল? ছাত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ লজ্জাজনক।” একই সঙ্গে কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বেরও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দীপকে স্পষ্ট জানান, সরকার যদি প্রতিশ্রুতি না রাখে এবং ছাত্রদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা বন্ধ না করে, তা হলে নতুন করে সর্বভারতীয় আন্দোলন সংগঠিত করা হবে।
এর আগের দিনই সিজেপির মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস অভিযোগ করেছিলেন, ছাত্র আন্দোলনের জেরে দিল্লি-সহ বিজেপি ও এনডিএ-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তা প্রত্যাহারের আশ্বাস কেন্দ্র দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির কোনও লিখিত নিশ্চয়তা এখনও মেলেনি। লিখিত আশ্বাস না মিললে দেশজুড়ে নতুন করে আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে সিজেপির সম্ভাব্য আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে এফআইআর প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি যদি বাস্তবায়িত না হয়, তবে সরকারের জবাবদিহি করা উচিত।
এই আবহেই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, নিট প্রশ্নফাঁস-বিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক অতীত না থাকলে তাদের মুক্তি দিতে হবে। যদিও আদালত স্পষ্ট করেছে, আইন মেনে তদন্ত প্রক্রিয়া চলতে পারে। আদালতের এই নির্দেশের পরেও রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং আন্দোলনের আবহ যে অব্যাহত থাকবে, তা স্পষ্ট।