বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : জয়নগর সাংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক রাজনৈতিক ও জনমুখী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়। বৈঠকে দলের নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা এবং বেআইনি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

এদিনের বৈঠকে গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তুলে একটি বিশেষ শ্বেতপত্র প্রকাশের কথাও ঘোষণা করা হয়। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, এই শ্বেতপত্রের মাধ্যমে রাজ্যের প্রকৃত পরিস্থিতি মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি, ‘কাটমানি সংস্কৃতি’ ও সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
সরকারি কর্মচারীদের জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। জানানো হয়, সমস্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা নিশ্চিত করা হবে এবং সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে রাজ্যের লাখো কর্মচারী উপকৃত হবেন বলে দাবি দলের।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দল। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের জন্য নতুন চাকরি ও স্বনির্ভরতার সুযোগ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
মহিলাদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘দুর্গা সুরক্ষা’ নামে একটি বিশেষ মহিলা পুলিশ ব্যাটেলিয়ান গঠন করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও, রাজ্যের সমস্ত সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা হবে। মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নের জন্যও একাধিক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ধান, আলু ও আম চাষে বিশেষ সরকারি সহায়তা এবং কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের প্রতিটি মৎস্যজীবীকে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়। রাজ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান মাছ রপ্তানিকারক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
শিল্প ও অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প কেন্দ্র গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়াও, পুরনো চা বাগানগুলির উন্নয়ন, দার্জিলিং চায়ের বিশ্বমানের ব্র্যান্ডিং এবং পাট শিল্পের আধুনিকীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করা, মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ ও স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা চালু করা হবে। উত্তরবঙ্গে নতুন এইমস, আইআইটি ও আইআইএম ক্যাম্পাস স্থাপনের কথাও জানানো হয়েছে।
এছাড়া, একটি বিশেষ ‘বন্দে মাতরম’ সংগ্রহশালা গড়ে তোলা এবং ধর্মাচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রয়োগের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই সাংবাদিক বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।