মাম্পি রায়, সাংবাদিক: আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও একবার বেইজ্জত হতে হল পাকিস্তানকে। তবুও লজ্জা নেই তাদের। যে দেশের মাটি সন্ত্রাসবাদের স্বর্গরাজ্য, ধর্মীয় মৌলবাদের আঁতুড়ঘর, সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাদ শরিফ রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় গিয়ে দাবি করেন, ধর্মীয় মৌলবাদ গোটা বিশ্বের শত্রু। ভারতের মাটিতে হিন্দু সন্ত্রাসবাদের চাষ হচ্ছে বলেও দাবি করলেন শরিফ। বাবরি মসজিদ ধ্বংস থেকে শুরু করে সেই মামলায় সাধ্বী প্রজ্ঞার মুক্তি, এমনকি বিজেপি শাসিত অঞ্চলগুলিতে একাধিক দাদাগিরির ঘটনাকে বর্ণনা করতে হিন্দু সন্ত্রাসবাদ বলে কটাক্ষ করে থাকে কংগ্রেস। এবার কংগ্রেসের সেই ভাষাই শোনা গেল পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফে গলায়। ভারতের মাটিতে হিন্দু সন্ত্রাসবাদের চাষ হচ্ছে- এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করতেই পাক প্রধানমন্ত্রীকে ঝেড়ে কাপড় পরাল ভারত। পালটা পহেলগাঁও থেকে শুরু করে লাদেনের উদাহরণ টেনে পাক সন্ত্রাসের ইতিহাস মনে করিয়ে দিল নয়াদিল্লি।

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাশ্মীর এবং অপারেশন সিঁদুরকে বিভ্রান্তিকর বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর আরও দাবি, ভারত-পাক সংঘাতে বিরাট জয় পেয়েছে পাকিস্তান। ভারতের ৭টি ফাইটার জেট নাকি ধ্বংস করেছে পাক বাহিনী।

পাল্টা ভারতীয় কূটনীতিক পেটাল গেহলট ধ্বংস হওয়া পাক এয়ারবেসের ছবি তুলে ধরেন। ভারতের প্রতিনিধি পেটাল গেহলট বলেন, এই ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিমানঘাঁটি যদি আপনাদের সাফল্যের নজির হয়, তাহলে আনন্দ করুন। পেটাল গেহলট আরও বলেন, কেউ নাটক বা মিথ্যেকে লুকোতে পারেন না। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পেটাল বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী অদ্ভুত নাটক করেছেন। আসলে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে মহানভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। এই পাকিস্তানই পহেলগাঁও হামলার পর টিআরএফকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। ওদের কোনও লজ্জা নেই। বছরের পর বছর ধরে এই দেশেই আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল ওসামা বিন লাদেনকে। যে দেশ সন্ত্রাসবাদের চাষ করে, সন্ত্রাসবাদীদের রফতানি করে, সেই দেশ হিন্দু সন্ত্রাসের কথা বলে কোন মুখে? প্রশ্ন করেন ভারতীয় কূটনীতিক। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবারও মুখ কালো করল পাকিস্তান।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক গোটা বিশ্বের সামনে পাকিস্তানকে ধুয়ে দেওয়া এই মহিলা পেটাল গেহলটের পরিচয়-
পেটাল গেহলট জন্মগ্রহণ করেন দিল্লিতে। মুম্বইতে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা। তারপর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি শ্রীরাম কলেজ ফর ওম্যান থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি। ২০১৫ সালে ভারতীয় বিদেশ সেবায় সামিল হন। রাষ্ট্রসংঘে ভারতীয় পরামর্শদাতা আধিকারিকদের মধ্যে অন্যতম হলেন এই পেটাল গেহলট। ২০২৩ সাল থেকে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনে প্রথম সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন পেটাল।

আমরা দেখেছিলাম পহেলগাঁও জঙ্গিহামলা এবং হত্যাকাণ্ডের পর অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছিল ভারত। নিরীহ মহিলাদের সিঁথির সিঁদুর কেড়ে নেওয়ার প্রতিশোধস্বরূপ পাকিস্তানে ঢুকে ৯টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। তাও হয়েছিল সেনাবাহিনীর দুই মহিলা অফিসারের নেতৃত্বে। কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং এবং উইং কম্যান্ডার ব্যোমিকা সিং- ভারতমাতার এই দুই সাহসী কন্যাকে স্যালুট জানিয়েছিল গোটা দেশ তথা বিশ্ব। এবার রাষ্ট্রসংঘে পাক প্রধানমন্ত্রীর মিথ্যে, অপপ্রচারের জবাব দিয়ে পাকিস্তানের মুখোশ টেনে ছিঁড়ে ফেলা পেটাল গেহলট আবারও ভারতীয় মহিলাদের মাথা উঁচু করে দিলেন, তা বলাই বাহুল্য।