জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিকঃ ফুচকা, নামটা শুনলে রাস্তার ধারে কিংবা পাড়ার মোড়ে ভ্যান, বাক্স নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার কথা নিশ্চয়ই মনে মনের মধ্যে ভেসে ওঠে। কখনও সখের বসে আবার কিছুটা ভালোলাগার বসে টুক করে সেখানে দাঁড়িয়ে পড়া। শাল পাতা হাতে অপেক্ষা করা আলুর পুর সহযোগে গোল গোল জল ভরা বলটার জন্য। কি.. জিভে জল আসছে বুঝি।

বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ। পুজোর চারটে দিন হল্লোড়। দেদার আনন্দ আর ছকভাঙা মজা। সঙ্গে জমিয়ে পেট পুজো। এই চারটে দিনের জন্যই তো বছর ভর অপেক্ষা। আর পুজোর মাস খানেক আগে থেকে হাজার প্ল্যান। ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা যেমন থাকে তেমনি থাকে বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা পরিবারের সঙ্গে বেরিয়ে কোথায় কি খাওয়া হবে তার একটা লম্বা তালিকা। প্যান্ডেল হপিং-এর মাঝে ফুচকা থাকবে না সেটা আবার হয় নাকি। নামটা শুনলেই মন কেমন আনচান করে ওঠে তো আট থেকে আশির।

জনপ্রিয় এই খাবারের সঠিক উৎপত্তিস্থল আজও অজানা। তবে পৌরানিক কাহিনী অনুসারে মনে করা হয়, মহাভারতের সময়ে ফুচকা তৈরি হয়েছিল। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্রৌপদী তার শাশুড়ি কুন্তীর জন্য, এটি তৈরি করেছিলেন, যা ছিল ছোট, মশলাদার, টক জলযুক্ত খাবার। তবে গবেষকদের মতে, ফুচকা মগধ সাম্রাজ্যেই প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল। তবে ফুচকা শুধু এখন আর জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড নয়। বরং ফুচকা মানে আবেগ।
এবার আপনাদের দেখাই, জনপ্রিয় এই খাবার কোথায় কী নামে পরিচিত-
উত্তরাঞ্চলে ফুচকা গোলগাপ্পা নামে পরিচিত। পশ্চিম সীমান্তের বাসিন্দারা ফুচকাকে পানিপুরি বলেন। মধ্যযুগের সুলতানরা এই কুড়মুড়ে খাবারটিকে বলতেন পানি কে বাতাশে। বিহার ও ওড়িশার লোকেরা ফুচকাকে গুপচুপ নামে ডাকেন। আলু এবং তেঁতুলের জলের সুস্বাদু মিশ্রণে ঠাসা এই কুড়মুড়ে খাবারটি কলকাতায় ফুচকা নামে পরিচিত। আসাম, ঝাড়খণ্ড বা বিহারের অনেক এলাকাতে ফুচকা নামেই পরিচিত।
যতই আপনি স্বাস্থ্য সচেতন হন, কড়া ডায়েটে থাকুন না কেন, রাস্তার ধারে ফুচকার দোকান দেখলেই আপনার মন আনচান করে ওঠে। রাস্তার ধারের ফুচকার দোকান সব বয়সের মানুষকে চুম্বকের মতোই টানে। গন্ধরাজ লেবু, তেঁতুল জল, ঝাল-ঝাল মশলা, বাদাম, ছোলা দিয়ে আলু মেখে তেঁতুল জল সহযোগে গালে দিলে সে এক স্বর্গীয় অনুভূতি।
পুজোয় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা হবে, বেড়ানো হবে, ঠাকুর দেখা হবে সঙ্গে চলবে দেদার খাওয়া-দাওয়া। কিন্তু জানেন কি কলকাতার সেরা ফুচকার ঠিকানা ….
বিবেকানন্দ পার্ক- কলকাতার অন্যতম সেরা ফুচকা পাওয়া যায় বিবেকানন্দ পার্কে। এখানে ফুচকা খেতে ভিড় জমান তারকারাও।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল- বেড়ানোর উপযুক্ত জায়গা ভিক্টোরিয়া আমরা প্রত্যেকেই জানি। কিন্তু আপনি জানেন কি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পাশে রাম গুপ্তার ফুচকা স্টল বিখ্যাত। এখানকার হরেক রকমের ফুচকা আপনার মন কাড়বে।
ঢাকুরিয়া- দক্ষিণ কলকাতার মানুষের কাছে দক্ষিণাপণ বেশ জনপ্রিয় জায়গা। আর এই দক্ষিণাপণের একেবারে লাগোয়া রাজেন্দ্রের ফুচকার দোকান। এই দোকানের দই ফুচকাও বেশ জনপ্রিয়।
পার্ক স্ট্রিট- পুদিনা জল দিয়ে ঝাল ঝাল ফুচকা যদি আপনার পছন্দের হয়, তাহলে কিন্তু পার্ক স্ট্রিটের ম্যাক্স মুলার ভবন সংলগ্ন ফুচকার দোকানে আপনাকে আসতেই হবে।
বড়বাজার- ফুচকার টক জলে হিং মেশানো হয় কোথায় জানেন। বড়বাজার থানা সংলগ্ন ফুচকার দোকানে। ফলে এখানের ফুচকার স্বাদও বেশ আলাদা।
লেক কালীবাড়ি- লেক কালীবাড়ির দুর্গা পণ্ডিতের ফুচকা শহরের অন্যতম সেরা। এখানে দই ফুচকা, আলু দম ফুচকার মতন নানান প্রকার ফুচকা পাওয়া যায়।
কি… জিভে জল এলো তো। ইচ্ছে করছে তো.. ফুচকার স্টলে টুক করে ঢুঁ মেরে দাঁড়িয়ে পড়তে। আপনি ফুচকা প্রেমী কিনা আমি জানি না। আমি শুধু চেষ্টা করলাম আপনাকে বেশ কিছু জনপ্রিয় ফুচকার দোকানের হোদিস দিয়ে সাহায্য করতে।