Chhatrapati Sambhajinagar, Jul 30 (ANI): Cockroach Janata Party (CJP) founder Abhijeet Dipke addresses the media, in Chhatrapati Sambhajinagar on Thursday. (ANI Video Grab)
আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃ নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে এবার আরও বড় বিতর্ক। একদিকে ভোটার তালিকার SIR নিয়ে কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের খবর সামনে এসেছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের দাবিতে সরব হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। আর এই বিতর্কের মধ্যেই সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর মন্তব্য -বিজেপিকে জেতাতে যদি এতটাই পরিশ্রম করতে হয়, তাহলে জ্ঞানেশ কুমারের বিজেপিতে যোগ দেওয়া উচিত। বুধবার সিজেপি জানায়, নির্বাচন কমিশনের সংস্কার এবং ভোটাধিকার রক্ষার বিষয়টিকে তারা সামনে আনতে চলেছে। এর আগে শিক্ষা, ছাত্র আন্দোলন এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে কর্মসূচি নেওয়া সিজেপি এবার তাদের নজর ঘোরাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের দিকে।

অভিজিৎ দীপকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন- ELECTION COMMISSION THIK KARO. GYANESH, IT’S DONE BRO. অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবার পথে নামতে চলেছে সিজেপি। গত রবিবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছিলেন অভিজিৎ দীপকে। তাঁর অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মে বিজেপির প্রতি পক্ষপাতের ছাপ দেখা যাচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন- বিজেপিকে জেতাতে যদি এতটাই পরিশ্রম করতে হয়, তাহলে জ্ঞানেশ কুমারের সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়া উচিত। এমনকি নির্বাচন কমিশনারদের বিজেপির সদর দফতরে বসে কাজ করার পরামর্শও দেন তিনি। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে SIR। ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনার এই প্রক্রিয়া নিয়েই সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত এক ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার-সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি-বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। এবং SIR সংক্রান্ত বিষয়েও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এই খবর সামনে আসার পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন ওই রিপোর্টের ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মতপার্থক্য থাকলেও সেটিকে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়। অর্থাৎ, একদিকে মতপার্থক্যের খবর। অন্যদিকে কমিশনের দাবি-চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ঐকমত্য ছিল। এই দুই বক্তব্যের মাঝেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাসও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুলেছেন। সৌরভ দাসের অভিযোগ ভোট দেওয়ার অধিকারই যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে শিক্ষা, বেকারত্ব বা উন্নয়ন নিয়ে আন্দোলনেরও কোনও অর্থ থাকে না। সৌরভ দাস একটি ভিডিও বার্তায় নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মূল বক্তব্য়-মানুষের ভোটাধিকার যদি সুরক্ষিত না থাকে, তাহলে সমাজের অন্যান্য সমস্যার সমাধান করলেও তার প্রভাব সীমিত হয়ে যাবে। সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।
ইতিমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তুলেছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তি নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সিজেপি এই পরিস্থিতিকে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে যুক্ত করছে। শুধু বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না সিজেপি-এর প্রতিবাদ নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মকে সামনে রেখে আন্দোলন ও জনমত তৈরির উদ্যোগের কথাও বলা হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হল-একদিকে যদি কমিশনের অভ্যন্তরে একাধিক আপত্তির কথা প্রকাশ্যে আসে, আর অন্যদিকে কমিশন যদি বলে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, তাহলে সাধারণ ভোটার কীভাবে বিষয়টি দেখবেন?একদিকে সিজেপির-এর অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাসরা নির্বাচন কমিশন এবং বিশেষ করে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলছে-মতপার্থক্য থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিশনের অবস্থান ঐকমত্যের। এর মাঝখানে রয়েছে SIR, ভোটার তালিকা এবং দেশের কোটি কোটি ভোটারের ভোটাধিকার নিয়ে চলা বিতর্ক। এখন নজর থাকবে এই বিতর্ক কি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য এবং প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি আদালত, নির্বাচন কমিশন কিংবা অন্য কোনও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর আরও ব্যাখ্যা সামনে আসে। কারণ গণতন্ত্রে শুধু ভোট দেওয়ার অধিকারই গুরুত্বপূর্ণ নয়-সেই ভোটার তালিকা কীভাবে তৈরি হচ্ছে, কীভাবে সংশোধন হচ্ছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ-সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।