মাম্পি রায়, সাংবাদিক: একদিকে যখন এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী প্রদীপ করের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সমর্থন করে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে মানুষ যাতে এসআইআর সমর্থন করেন, জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে সেই মর্মে আবেদন জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় আমরা সবাই গাববেড়িয়া আয়োজিত শ্রীশ্রী জগদ্ধাত্রী পুজোযর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল শুভেন্দু। সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁর অভিযোগ হিন্দুদের ধর্মাচরণে বাধা দিতে অত্যাচার করা হচ্ছে। অথচ সব জেনেও চুপ পুলিশ প্রশাসন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ আসার পথে সকালবেলায় মন্দিরবাজার থেকে ছবি পেলাম। মৃৎশিল্পীরা মা জগদ্ধাত্রীর প্রায় ৪-৫টি তৈরি করে রেখেছিলেন, সেই মূর্তির মাথা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ কোন রাজ্যে আমরা বসবাস করছি ? এমন কোনও পূজো নেই, এমন কোনও হিন্দুদের ধর্মানুষ্ঠান নেই যেখানে এমন চরম অসভ্যতামি হচ্ছে না। যেখানে জেহাদি শক্তির আস্ফালন ঘটানো হচ্ছে না। এরা কারা এখনও চিহ্নিত করা যায়নি। তাহলে ট্যাক্সের টাকায় আমরা যে পুলিশগুলোকে রেখে বেতন দিচ্ছি, তাদের কাজটা কী? আমরা জানতে চাই।“
শুভেন্দু আরও বলেন, “ মন্দিরবাজারে কয়েকদিন আগে মা কালীর পূজিত মূর্তির মুন্ডচ্ছেদ করা হয়েছে। অবশেষে সেই মূর্তিকে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্রিটিশ আমলে ঋষিবঙ্কিমচন্দ্রের মুর্শিদাবাদের লালগোলায় মায়ের হাতে পায়ে শিকল পরানোর মতো দৃশ্য দেখলাম। রাজনীতি করুন। কিন্তু হিন্দু ধর্ম পালনে এত বাধা কেন? আমি মনে করি কোনও প্রকৃত হিন্দু, মায়ের গায়ে হাত দিতে পারে না। এরা নয় বিধর্মী, নয় নাস্তিক।“
গাববেড়িয়ায় বাধাহীনভাবে আসার জন্যও হাইকোর্টে যেতে হয়েছে বলে ক্ষোভ উগরে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “গত সপ্তাহে কালীপুজোর উদ্বোধনেপাথরপ্রতিমায় গিয়েছিলাম। ভোট চাই ভোট চাই, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও বলতে আসিনি। আমি ধর্ম পালন করতে এসেছি। আমার অবস্থাও খগেন মুর্মুর মতোই হত। ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বুলেটপ্রুফ গাড়ি দিয়েছে বলে এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম।“
শুভেন্দুর অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় যারা আদি হিন্দু বাসিন্দা, তারা জলের দামে জমি বিক্রি করে শহরের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন। শুভেন্দু বলেন, “ কামালগাজি থেকে কলকাতা বা জোকা হরিদেবপুরের দিকে যেতে গেলেই বুঝবেন- হিন্দু পলায়ন হচ্ছে। সাহস সঞ্চয় করুন। হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা অন্য ধর্মের প্রতি খারাপ আচরণ করি না। আমার অভিযোগ প্রশাসন, সরকার, পুলিশের বিরুদ্ধে। তারা কেন একচোখ খুলে রেখেছেন ? তারা কেন সংবিধান, আইনের শাসন ও ধর্ম পালনের অধিকার আমাদের দিচ্ছে না? “
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনারা রাজনীতিতে বিভক্ত হবেন না। সনাতনী ঐক্য গড়ে তুলুন। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, ধর্ম যার, রক্ষা করার দায়িত্বও তার। আমাকে রায়দীঘি পাথরপ্রতিমায় বাধা দিয়েছে। তাও বলছি, হিন্দুদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেই আমি পৌঁছে যাবো। পারলে আটকাবেন, পারলে গাড়ি ভাঙবেন, মাথা ভাঙবেন। অযোধ্যার রামমন্দির তৈরির জন্য সাড়ে ৩ লক্ষ হিন্দু ৮৫ বার আত্মবলিদান দিয়েছেন। করসেবকরা আত্মবলিদান দিয়েছেন। তাই ধর্মরক্ষার জন্য রক্ত দিতেও আমি প্রস্তুত। ধর্মরক্ষার কাজ চলবে।“
সবশেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভারতের নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করুন। তাঁরা যাতে পরিচ্ছন্ন ভোটার তালিকা তৈরি করতে পারেন। আমিও চাই ভারতীয়রা আমাকে ভোট দিয়ে ফেলে দিক। অভারতীয়রা কেন ভোট দেবে? তাই ভারতীয়রা নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করবেন। মৃত, অস্তিত্বহীন, অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকবে না সেই তালিকায়। “
এতদিন ভারতীয় হিন্দুদের ভোট দিয়ে তৃণমূলের সরকারকে ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানাতেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এবার শুভেন্দু একী বললেন? তিনি বলছেন, “ভোট দিয়ে আমাকে ফেলে দিক। অভারতীয়রা কেন আমাকে ফেলবেন?“ তাহলে কি বিধানসভা নির্বাচনের আগেই নিজের হার স্বীকার করে নিলেন শুভেন্দু অধিকারী?