মাথায় গুরুতর আঘাত। ক্ষত জুড়ে সারি সারি সেলাই। তবু বিপদের মুখে হার মানেননি তিনি। নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও বিমানের ১৭০-র বেশি যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। এ বার মাথায় সেলাইয়ের চিহ্ন নিয়ে তাঁর ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে চর্চায় উঠে এল তাঁর সাহসিকতার কাহিনি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানে ঘটেছিল ওই ঘটনা। অভিযোগ, বিমানের ককপিটের ভিতরে সহকারী পাইলট একটি কুড়ুল দিয়ে স্মিতের মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর জখম হন তিনি। তাঁর মাথার খুলিতে জটিল ধরনের চিড় ধরেছিল বলে জানা যায়। কিন্তু সেই অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন স্মিত। ফলে অন্য বিমানকর্মীরা ভিতরে ঢুকে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করতে পারেন।
এই ঘটনার মধ্যে মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে এসেছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে অন্য দুই পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান। স্মিতকে প্রথমে সেখানকার হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে আবু ধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্মিতের সাহসিকতার স্বীকৃতিও মিলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তরফে তাঁকে এবং বিমানের অন্য কর্মীদের ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ ২’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম তাঁদের হাতে এই সম্মান তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এর আগে স্মিতের প্রশংসা করেছিলেন। গুজরাত সরকার তাঁকে ‘বিশিষ্ট গুজরাত গরিমা’ সম্মান দিয়েছে। ইজ়রায়েলের তরফেও নাগরিক সাহসিকতার জন্য পুরস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
মাথায় সেলাইয়ের দাগ নিয়ে স্মিতের ভাইরাল ছবিগুলি ফের মনে করিয়ে দিচ্ছে, সঙ্কটের মুহূর্তে কর্তব্যে অবিচল থাকাই এক জন প্রকৃত পেশাদারের পরিচয়। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য তাঁর এই ভূমিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটপাড়া।