নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি: পরিকাঠামোর অভাব, সরকারি আনুকূল্যের অভাব হোক বা আর্থিক অসঙ্গতি। সব প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে সাফল্যকে অর্জনের ক্ষমতা রাখে শহরের এই বিশ্ববিদ্যালয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুটে জুড়েছে নয়া পালক। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বের সেরা দুই শতাংশ বিজ্ঞানীদের তালিকায় নাম জুড়েছে যাদবপুরের বেশ কয়েকজন অধ্যাপকের নাম। যা আবারও একবার যাদবপুরের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল।

১৯০৬ সালে শুরু পথ চলা শুরু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের। প্রথমে বেঙ্গল টেকনিক্যাল কলেজ হিসাবে পরিচিত ছিল এই আজকের যাদবপুর। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন হয় তখন দেশে চলছিলো ব্রিটিশ শাসন। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যই ছিল ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প হিসাবে দেশে কারিগরি, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটানো। এই বেঙ্গল টেকনিক্যাল কলেজ ১৯৫৫ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে আত্মপ্রকাশ। মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং ও বৈজ্ঞানিক শিক্ষাচর্চা এবং গবেষণায় যে প্রতিষ্ঠান গরিমালাভ করেছিল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সামলাতে হয়েছে বহু ঝড়ঝাপটা। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয় আজও তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে।

নানা অনভিপ্রেত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খবরের শিরোনামে এসেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। এটি সরকারপোষিত প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি। সরকারপোষিত বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পরেও বহুবারই রাজ্যের তরফে আবার কখনও কেন্দ্রের তরফে ব্যয় সঙ্কোচন করা হয়েছে। অন্যদিকে স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রেও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ঠিক মতো আর্থিক অনুদান না পাওয়ায় মার খাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগে প্রয়োজনীয় গবেষণা সামগ্রী, গবেষণাগার সংস্কার, নতুন যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতার মতো সমস্যা দেখা গিয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরে ওবিসি সংরক্ষণ জটের কারণে রাজ্য জয়েন্টের ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়। যার প্রভাব পড়েছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্নাতকস্তরে। এমন কি এবার ফাঁকা রয়ে গিয়েছে রেকর্ড সংখ্যক আসন।যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যৎসামান্য খরচে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া এবং প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়ারাও শিক্ষালাভের সুযোগ পান, কেন্দ্র-রাজ্যের এই সাঁড়াশি চাপে দিনের পর দিন ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো। তবে অবশ্য উৎকর্ষ ধরে রাখার জন্য বহু ক্ষেত্রই পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রাক্তনীরা।
তবে এত বাধাকে উপেক্ষা করে সম্প্রতি এলসিভিয়ার একাধিক প্রকাশনার সঙ্গে যৌথ ভাবে আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন যাদবপুরের বেশ কিছু গবেষক। যা যাদবপুরের ইতিহাসে গর্বের বিষয়। স্ট্যানফোর্ড-এর এই দু’শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকার ‘কেরিয়ার লং’-এ ৪০ জন এবং ‘লাস্ট ওয়ান ইয়ার পারফরম্যান্স’-এর ৫০ জন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তথা অধ্যাপকের নাম রয়েছে । প্রসঙ্গত, ২০১৯ সাল থেকে প্রকাশিত এই তালিকায় প্রথমে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ থেকে ২৫ জন গবেষকের নাম ছিল। বর্তমানে এতরকম প্রতিকূলতা পেরিয়ে, আগের তুলনায় আরও উন্নত স্থানে পৌঁছে গেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।উল্লেখ্য, শুধুমাত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নয়, রাজ্যের আর এক নামী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীদেরও নামও রয়েছে স্ট্যানফোর্ড-এর তালিকায়। সেটি হল আইআইটি খড়গপুর। আইআইটি খড়গপুরের ৯০ জন বিজ্ঞানীও রয়েছেন এই স্ট্যানফোর্ড-এর তালিকায়।