নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্কে ফের কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর দাবি, ভোটে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি বিরোধীদের কাছে প্রমাণ চেয়েছিলেন। সেই প্রমাণ তাঁরা দেবেন। রাহুলের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি ভবন নয়, প্রধানমন্ত্রীর দফতর (পিএমও) থেকে তাঁদের বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন তিনি।

রাহুল বলেন, ‘‘আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েছিলাম। রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেছিলেন, প্রমাণ দিতে। আমরা সেই প্রমাণ দেব। লক্ষ্য করেছেন কি, রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে কোনও অস্বীকার করা হয়নি। নীরবে অস্বীকার করেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর।’’ তাঁর দাবি, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদেও নির্বাচনী অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যদিও রাহুলের এই বক্তব্যের স্বাধীন ভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে শুধু রাজপথের লড়াই হিসাবে দেখতে নারাজ কংগ্রেস নেতা। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা রাজপথের জন্য লড়ছি না। আমরা মানুষের মন এবং হৃদয় জয়ের জন্য লড়ছি।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং নির্বাচন কমিশনের একাংশের বিরুদ্ধে দেশকে ভুল পথে চালিত করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। শিল্পপতি মুকেশ অম্বানী ও গৌতম আদানির স্বার্থরক্ষার অভিযোগও করেন রাহুল।
এ দিন সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, কংগ্রেস সভাপতি এবং তিনি প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতি তাঁদের আবেদন জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই মতো ইন্ডিয়া জোটের নেতারা একসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আবেদন জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন রাহুল।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে রাহুলের হুঁশিয়ারি, ভোটে কারচুপির অভিযোগে তাঁরা পিছিয়ে আসবেন না। পুলিশি বাধা, ব্যারিকেড কিংবা আটক করে আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, পুলিশ, আইটিবিপি এবং সিআরপিএফের একাংশও তাঁদের আন্দোলনকে সমর্থন করছেন। তবে এই দাবির পক্ষেও কোনও স্বাধীন প্রমাণ পেশ করেননি তিনি।
সংবিধানের একটি প্রতিলিপি হাতে নিয়ে রাহুল বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই এক দিনের নয়। বার বার বাধার মুখে পড়লেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘এক দিন বেরোলে আটকাবে, পরের দিন বেরোলেও আটকাবে। আটকাতে দিন। এ ভাবেই একটি দেশ গড়ে ওঠে।’’ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই আন্দোলন আগামী দিনে কোন পথে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।