বাজারে সস্তায় সহজলভ্য প্রোটিনের অন্যতম উৎস ব্রয়লার মুরগি। কিন্তু প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই মাংস রাখার আগে তার উৎপাদন পদ্ধতি এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবিতে ব্রয়লার মুরগির দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার এবং তার সঙ্গে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা AMR-এর সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

Cobb 500 বা Ross 308-এর মতো আধুনিক ব্রয়লার জাতকে দ্রুত বৃদ্ধি ও বেশি মাংস উৎপাদনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত প্রজননের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ফলে সাধারণ দেশি মুরগির তুলনায় খুব অল্প সময়েই বাজারজাত করার উপযোগী ওজন পেয়ে যায় তারা। তবে এই দ্রুত বৃদ্ধি যে নিজেই মানুষের জন্য ‘বিষাক্ত’ বা সরাসরি ক্ষতিকর—এমন দাবি প্রমাণিত নয়।
উদ্বেগের বড় জায়গা অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার। খামারে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঘটনা রয়েছে। বিশেষ করে মানুষের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক পশুপালনে অযথা ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণু তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। ভারতে পশুখাদ্যে colistin ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়েছে।
তবে ব্রয়লার মাংস খেলেই মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক ঢুকে গিয়ে জ্বর, নিউমোনিয়া বা অন্য সংক্রমণের ওষুধ অকার্যকর হয়ে যাবে—এমন সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ নেই। একই ভাবে ব্রয়লার মাংসকে শিশুদের অকাল ঋতুস্রাব, PCOD, বন্ধ্যাত্ব, ফ্যাটি লিভার বা ক্যানসারের প্রধান কারণ বলার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণও নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা, ভাল ভাবে রান্না করা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা অপরিষ্কার মাংস এড়িয়ে পরিমিত পরিমাণে মুরগি খাওয়াই নিরাপদ পন্থা।
শিরোনামটি আরও সংক্ষিপ্ত করদাবি ও তথ্য আলাদা করে লেখশেষে রান্নার নিরাপত্তা যোগ কর