অঙ্কিতা পাল, সাংবাদিক: লিপস্টিক প্রত্যেক মেয়েদেরই পছন্দের। মেকআপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল লিপস্টিক। পোশাকের সঙ্গে মানানসই শেডের লিপস্টিক সাজের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। পুজোয় নতুন জামা, শাড়ি পরে মেকআপ করার সময়ে ঠোঁটে লিপস্টিকও লাগাবেন না তা তো হতেই পারে না। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের লিপস্টিক পাওয়া যায়। ম্যাট শেড, ন্যুড সেড থেকে লিকুইড লিপস্টিক,অনেক ধরনের লিপস্টিকের চল রয়েছে। কিন্তু জানেন কি ঠোঁটে আপনি যে লিপস্টিক ব্যবহার করছেন, তাতে ক্যানসারের বীজ লুকিয়ে থাকতে পারে? লিপস্টিকে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক। এই সব রাসায়নিক আপনার স্বাস্থ্যের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকী আপনার কিডনি, ফুসফুস সহ আরও জটিল শারীরিক সমস্যার কারন হতে পারে লিপস্টিক। আমেরিকার বার্কলে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, লিপস্টিকে থাকা কিছু ধাতব পদার্থ যদি শরীরের ভিতরে যায়, তা থেকে হতে পারে ফুসফুসের ক্যানসার।

তবে একই সঙ্গে সেই গবেষণায় বলা হয়েছে, লিপস্টিক থেকে ফুসফুসের ক্যানসার হবে কি না, তা নির্ভর করে আপনি যে লিপস্টিকটি ব্যবহার করছেন তার ওপর। লিপস্টিকটি কী ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, । লিপস্টিক কতটা পরিমাণে ঠোঁটে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা লালার মাধ্যমে শরীরে যাচ্ছে কি না, যিনি ব্যবহার করছেন, তাঁর সামগ্রিক স্বাস্থ্য কেমন, তিনি সংস্থার ব্যবহারবিধি মেনেই ব্যবহার করছেন কি না। তবে পাশাপাশি, ক্ষতিকারক উপাদান থেকে সতর্ক হওয়াও ভাল।

১.যে সমস্ত লিপস্টিকের রঙে হলুদ বা কমলা রঙের আধিক্য বেশি, তাতে ক্যাডমিয়াম নামের এক ধরনের ধাতু থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ক্যাডমিয়াম ঠোঁট থেকে লালার মাধ্যমে যদি শরীরে প্রবেশ করে এবং দীর্ঘ দিন ধরে শরীরে জমতে থাকে, তবে তা থেকে ফুসফুসের ক্যানসার তো বটেই, দীর্ঘ ব্যবহারে কিডনি এবং হাড়েরও ক্ষতি হতে পারে।
২.ক্রোমিয়াম একটি ভারী ধাতু, যা বেশ কিছু লিপস্টিকে ব্যবহার করা হয়। এই ধাতব উপাদানও ফুসফুসের ক্যানসারের কারণ হতে পারে।
৩.সিসা স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে বলেই জানেন অনেকে। তবে এই ভারী ধাতুও ফুসফুসের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

৪.কিছু লিপস্টিকে বেনজিনও ব্যবহার করা হয়। বেনজিন ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর একটি বিষাক্ত পদার্থ বলে জানাচ্ছে গবেষণা। এর থেকেও ক্যানসার হতে পারে।
৫.ক্রিস্টালাইন সিলিকার মত খনিজ ব্যবহার করা হয় লিপস্টিক, লিপ গ্লস, আই শ্যাডো এবং অন্যান্য প্রসাধনীতে। গবেষণা বলছে, এর কণা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকলে তা ফুসফুসের ক্যানসারের কারণ হতে পারে। যদিও লিপস্টিকে এর উপস্থিতি থেকে সেই ঝুঁকি কম, তবুও ব্যবহার না করায় স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।
৬.ফর্মালডিহাইড এবং প্যারাবেনের মতো উপাদান থাকতে পারে কিছু লিপস্টিকে। যা থেকে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞরা।আরও এক রাসায়নিক থাকে, যা হল স্যালিসাইলিক অ্যাসিড। ঠোঁট নরম রাখার জন্য এই উপাদানটি মেশানো হয়, কিন্তু এটির কারণে ত্বকের কোষের ক্ষতি হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন লিপস্টিক বা বাম কেনার আগে অবশ্যই লেবেল পরীক্ষা করে তারপর কিনুন। যতটা সম্ভব রাসায়নিক মুক্ত লিপস্টিক বা লিপ বাম ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।