আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : একি কাণ্ড তৃণমূলের তিন বিধায়কের বিরুদ্ধে শেষমেশ বিধানসভায় সই জালিয়াতির অভিযোগ। যার তদন্ত করতে একেবারে বিধায়কদের দরজায় কড়া নাড়ল সিআইডি । শুধু কড়া নাড়া নয় সঙ্গে ছিলেন হস্তাক্ষর এক্সপার্টরাও। সই জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা বিধায়কদের তালিকায় রয়েছেন নবনির্বাচিত বিধায়ক কুণাল ঘোষও । বিধানসভায় সই জালিয়াতি বিষয়টি সত্যিই খুব নতুন। এ আবার কী নয়া দুর্নীতি? বিধানসভায় সই জালিয়াতি করে হবে টা কি? কীভাবে এবং কেন এই সই জালিয়াতির অভিযোগ? হেনস্থা করার জন্য বাড়িতে সিআইডি পাঠানো হয়েছে বলে দাবি ওই তিন তৃণমূল বিধায়কের। অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ দুই নম্বরির পার্টি। তৃণমূল দল নিয়ে ভবিষ্যত বাণীও করতে ছাড়েননি তিনি।

এবার আসি আসল প্রসঙ্গে এই সই জালিয়াতির বিষয়টি আসলে কি। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে নিয়ম মেনে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল বিধানসভার সচিবকে। সেখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের সামনে তৃণমূলের এই বিধায়কেরা যে সই করেছেন, তার সঙ্গে পরিষদীয় দলের ওই চিঠির স্বাক্ষর মিলছে না। বিধানসভা থেকেই এ বিষয়ে হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত তদন্তই করছে সিআইডি। লালবাজারকে হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞ দিয়ে সাহায্য করছে সিআইডি। সিআইডির একটি দল বৃহস্পতিবার প্রথমে দুবার নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিল। দুপুরে চৌরঙ্গীর বিধায়ক বাড়িতে ছিলেন না বলে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি। নয়নার সঙ্গে এর পর সিআইডি আধিকারিকের ফোনে কথা হয়। পরে সন্ধ্যায় নয়না বাড়ি ফিরলে আধিকারিকেরা আবার যান তালতলার বাড়িতে। সূত্রের খবর, যে দলটি এসেছিল তাতে দু’জন মহিলা এবং চার জন পুরুষ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক জন ভিডিয়োগ্রাফার। তাঁর প্যান কার্ডের ছবিও তাঁরা তুলে নিয়ে যান। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আমি পাঁচ বারের বিধায়ক, এটা আমার কাছে অসম্মানজনক। শুক্রবার সিআইডির আধিকারিকরা যান কুণাল ঘোষের বাড়িতে। তিনি বাড়িতে না থাকায় চলে যান সিআইডি আধিকারিকরা। তবে তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলে সিআইডি। কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন আগামী দুএক দিনের মধ্যে তিনি নিজে গিয়ে অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে জবাব দিয়ে আসবেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সই জালিয়াতির প্রসঙ্গ উত্থাপন হল কেন। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি,চিঠিতে সই করার জন্য যে জায়গা ছিল সেই জায়গার মধ্যে সই করায় বিভ্রান্তি হতে পারে। সূত্রের খবর, ওই রেজোলিউশনে সইয়ের সঙ্গে তারিখ গড়মিল নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। প্রথম দিন তৃণমূল পরিষদীয় দলের যে বৈঠক হয় সেই বৈঠকের পর শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়ের নামের সপক্ষে একটি চিঠি দেওয়া হয় বিধানসভায়। এরপর রেজোলিউশন চায় বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। তখনই রেজোলিউশন-সহ ৭০ জনের সই ও তারিখ জমা দেওয়া হয়। এখানেই একের পর এক সই-তারিখ নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বাড়ছে জটিলতা। ৭০ জনের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে যাঁদের বিরুদ্ধে তাঁরা হলেন, চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম,বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তৃণমূলের অন্দরে প্রশ্ন প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই কি সিআইডি দিয়ে হেনস্থা। বৃহস্পতিবারই সোশ্যাল মাধ্যম থেকে প্রকাশ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্ম নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন কুণাল ঘোষ।
এরপরেই রাত পোহাতে না পোহাতেই তাঁর বাড়িতে গেল সিআইডি অধিকারিকরা। যা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। মুখ খোলায় কি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে কুণাল ঘোষকে। অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দাবি, তৃণমূল দলের নীতি আদর্শ নেই। এই দলের উদ্দেশ্যই ছিল টাকা কামানো, তাই নাকি এত দুর্নীতি।
এখন দেখার এই সই জালিয়াতির জল কতদূর গড়ায়। কী হেপা পোহাতে হয় এই তিন বিধায়ককে। এমনিতেই তো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক ধাক্কা সহ্য করতে হচ্ছে প্রাক্তন শাসক দলকে। এমনকি ভাঙনের মুখেও পড়েছে দল। যা দেখে সোশ্যাল মাধ্যমে কলম ধরেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গিরগিটি কবিতা লিখে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বার্তা দিয়েছেন দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলা তৃণমূল নেতা নেত্রীদের। এখন দেখার আগামীতে আর কি কি ঘটনার সাক্ষী হতে হয় ঘাসফুল শিবিরকে।