বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ম্যানগ্রোভ ইনফো সিস্টেম সংরক্ষণ উপলক্ষে নেচার এনভায়রনমেন্ট এন্ড ওয়াইল্ড ওয়াইফ সোসাইটি বাইপাসের একটু পাঁচ তারা হোটেলে আলোচনা চক্রের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বন্য দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। সেই আলোচনা চক্রের সুন্দরবনের কুমিরের সংখ্যা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করার মন্ত্রী। তিনি জানান, “সুন্দরবন বলতে আমরা জানি জলে পড়লে কুমির খাবে ডাঙ্গায় উড়লে বাঘে। ভাবতাম সেখানকার জলে অনেক কুমির রয়েছে। অথচ তা নয় কুমিরের সংখ্যা অত্যন্ত কম।”

সম্প্রতি বনমন্ত্রী সুন্দরবন পরিদর্শনে যান। তাঁর ধারণা ছিল ২০০০-এর মতো কুমির থাকতে পারে সেখানে। কিন্তু আলোচনা চক্রে বন দফতরের তথ্য শুনে তিনি হতবাক হয়ে যান। বন দফতরের তথ্য অনুযায়ী আড়াইশো মতো কুমির রয়েছে সুন্দরবনে। সুন্দরবনের কুমিরের সংখ্যা কিভাবে এত কমলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। এত কুমির গেল কোথায়? ম্যানগ্রোভের এই জঙ্গলে শাসন করে যাচ্ছে বাঘেরা। সুন্দরবনের জল নোনা। এই নোনা জলে দাপিয়ে বেড়ায় কুমির, রয়্যাল বেঙ্গলরা। এদের টানে দেশ বিদেশের পর্যটক ওয়ার্ল্ড ওয়াইফ ফটোগ্রাফাররা এই অঞ্চলে বারবার ফিরে আসেন। দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক আছেন এই দ্বীপাঞ্চলে, হলুদ ডোরাকাটাকে একবার চাক্ষুস করার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় থাকেন তারা। সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখতে কুমিরের সংরক্ষণ ও জরুরী বাঘশুমারি মত প্রতিবছর কুমিরশুমারিও করে বনদফতর। বাঘ গণনার কাজ অনেকটা সহজ। বাঘেদের ক্ষেত্রে জঙ্গলে ট্র্যাপ ক্যামেরা বসিয়ে শুমারির কাজ করা হয়। কিন্তু কুমিরের ক্ষেত্রে সেই কাজ আরো ঝুঁকিপূর্ণ। ছোট ছোট নৌকায় চেপে বনকর্মীদের খাঁড়িতে ঢুকে কুমিরের আস্তানা চিহ্নিত করতে হয়। সেখানে থাকা কুমিরের মাথা গোনা তাদের দেহের ছাপ দেখে শুমারি করা হয়। ফলে কুমিরের সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে আরও উন্নত মেশিনপত্রের মাধ্যমে কুমিরশুমারি করা গেলে সুবিধা হত বলে জানাচ্ছেন বনকর্মীরা।