সাতসকালে হাড়হিম করা ঘটনা দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে। স্ত্রীকে নৃশংস ভাবে খুন করার পর তাঁর কাটা মুণ্ড হাতে নিয়ে মন্দিরের সামনে বসে রইলেন স্বামী। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্বামী রিন্টু ঘোষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক ভাবে আর্থিক অনটনকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের কথা উঠে আসছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গারামপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা রিন্টু। প্রায় ১১ বছর আগে সীমা সরকারকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। এক সময়ে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থায় কন্ডাক্টরের কাজ করতেন রিন্টু। পরে সেই কাজ ছেড়ে দেন। তার পর থেকে বাড়িতেই পুজো-পাঠ করতেন। মাঝেমধ্যে তান্ত্রিকের বেশেও দেখা যেত তাঁকে।
প্রতিবেশীদের দাবি, বেশ কিছু দিন ধরেই আর্থিক সমস্যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। বুধবার সকাল ৭টা নাগাদ স্থানীয়েরা দেখেন, এলাকার একটি মন্দিরের সামনে বসে রয়েছেন রিন্টু। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও কাছে যেতেই চোখে পড়ে ভয়াবহ দৃশ্য। তাঁর কোলে স্ত্রীর কাটা মুন্ডু! এমন দৃশ্য দেখে কার্যত শিউরে ওঠেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্থানীয়দের কয়েক জনের দাবি, তাঁদের দেখতে পেয়ে কাটা মুণ্ড হাতে নিয়ে এগিয়েও আসেন অভিযুক্ত।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়াররা। রিন্টুকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় সীমার দেহ। এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
এই ঘটনার নেপথ্যে তন্ত্রসাধনা রয়েছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও পুলিশের তরফে এখনও এমন কোনও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। আর্থিক বিবাদ, পারিবারিক অশান্তি, নাকি অন্য কোনও কারণ—কী থেকে এই হত্যাকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করছে পুলিশ।