New Delhi, Jun 09 (ANI): TMC MP Kalyan Banerjee speaks during a press conference, in New Delhi on Tuesday. (ANI Photo/Sumit)
মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চরম অসন্তোষ ও বিদ্রোহ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই পরিস্থিতি যেন দিনের পর দিন আরও বড় আকার নিচ্ছে। এ বার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ঘিরে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে ঘাসফুল শিবিরে।

বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। আদালত তাঁকে সিআইডির তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। তবে শুনানির আগে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন অভিষেকের আইনজীবী হিসেবে আদালতে সওয়াল করা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আচমকাই ওই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবী আদালতে অভিষেকের পক্ষে হাজির হন।
এর পরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘‘এত ঔদ্ধত্য আমি নিতে পারছি না। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলব। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলে থাকলে আমি আর এই দলে থাকব কি না, তা ভেবে দেখতে হবে।’’
তৃণমূলের দীর্ঘ দিনের সাংসদ কল্যাণকে বরাবরই দলের কঠিন সময়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অন্যতম আস্থাভাজন মুখ হিসেবে দেখা গিয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেও তিনি প্রকাশ্যে দলনেত্রীর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। এবার সেই কল্যাণের মুখে এমন মন্তব্য সামনে আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে।
দলের নেতাদের একাংশের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সংগঠনের ভিতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছিল। বিক্ষুব্ধ শিবিরের দাবি, বহু প্রবীণ নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করানো হত এবং তাঁদের মতামত যথাযথ গুরুত্ব পেত না। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বা তাঁর ঘনিষ্ঠ শিবিরের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূলের ভিতরে যে অসন্তোষ ধীরে ধীরে জমা হচ্ছিল, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য তা প্রকাশ্যে নিয়ে এল। তিনি শেষ পর্যন্ত দলেই থাকবেন, না কি নতুন কোনও রাজনৈতিক অবস্থান নেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর এই মন্তব্য যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল, তা নিয়ে সংশয় নেই।