
বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরা বাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পরে কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ হিসাবে এককালীন ১০ লক্ষ টাকা করে সাহায্য করা হবে।
রবিবার ভোর রাত তিনটে নাগাদ নাজিরাবাদে একটি ডেকরেটর্সের গুদামে প্রথমে আগুন লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশে থাকা মোমো কারখানার গুদামে। সে সময় কয়েকজন কর্মী গুদামের মধ্যে ছিলেন। সেখানে প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় দাহ্য নিমিষেই দাবানলের আকার ধারণ করে ওই আগুন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১২টি ইঞ্জিন। টানা ১৯ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন আয়ত্তে আসে। যদিও এদিন বিকেল পর্যন্ত ধ্বংসস্তুপের মধ্যেও ধিকি-ধিকি আগুন জ্বলতে দেখা গিয়েছে। কোথাও আবার ধ্বংসস্তুপের ভিতর থেকে বের হচ্ছে কালো ধোঁয়া।
এখনও পর্যন্ত আটজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও তাদের দেহাংশও পুড়ে এতটাই ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে যে শনাক্ত করা যায়নি। একমাত্র ডিএনএ পরীক্ষার পরে মৃতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। নরেন্দ্রপুর থানায় আটজনের নিখোঁজের তথ্য রুজু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে দু’টি এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। এদিন সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তিনি বলেন, “ গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।“
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এদিন সন্ধ্যায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জতুগৃহের রূপ ধারণ করে নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরাবাদ। সেখানে গিয়ে জোড়া গুদামস্থল পরিদর্শন করেন কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। উদ্ধারকারীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি নিখোঁজদের পরিজনদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহতদের পাশে রাজ্য সরকার আছে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। সেই সঙ্গে গুদামের মালিক-সহ ঘটনার পিছনে যারা জড়িত, তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৪২ ঘন্টা বাদে এদিন সন্ধ্যায় আটক করা হয় ডেকরেটর্স সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাসকে। নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশের একটি দল মেদিনীপুরে হানা দেয়। বাড়ি থেকে বের হতেই গঙ্গাধর দাসকে আটক করা হয়। যদিও গুদাম মালিক বরাবরই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দায় চাপিয়েছেন মোমো সংস্থার ঘাড়ে। কিন্তু গুদাম যে জমিতে অবস্থিত, তার মালিক ছিলেন গঙ্গাধর। মোমো সংস্থা তাঁর কাছ থেকেই গুদামটি লিজে নিয়েছিল।