পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার বলেছেন, বাংলার মানুষ স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার কারণে সমস্যার মুখে পড়েছেন। এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। মমতার স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি কোনওভাবেই হার মানবেন না।

রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বাংলাকে লুট করেছে। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পথেই চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি। মমতা বলেন, “SIR-এর কারণে বাংলার মানুষ পরিস্থিতির শিকার। আমরা হাল ছাড়ব না। প্রয়োজনে জীবন দেব, লড়াই করব, কিন্তু মাথা নত করব না। ওরা আমাদের বাংলাকে লুট করেছে। আমরা গণতন্ত্রকে রক্ষা করব এবং ফিরিয়ে আনব। রাজনীতির মাধ্যমে এর জবাব দেব, গণতন্ত্রের মাধ্যমেই লড়াই চালিয়ে যাব।”
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি ও তাদের সহযোগী দলগুলি আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। অখিলেশ বলেন, “যাঁরা একসময় উত্তরপ্রদেশে এসেছিলেন, তাঁদের এবার উত্তরপ্রদেশ থেকেই বিদায় নিতে হবে। উত্তরপ্রদেশের মানুষ কাউকে কীভাবে স্বাগত জানাতে হয়, আবার কীভাবে বিদায় জানাতে হয়, তা খুব ভালো করেই জানেন। ২০২৭ সালে এমন বিদায় হবে যে বিজেপি ও তাদের সহযোগীরা আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না।”
রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশকে ‘গণতন্ত্রের হলদিঘাটির যুদ্ধ’ বলেও উল্লেখ করেন অখিলেশ। তাঁর কথায়, সমাবেশে মানুষের বিপুল উপস্থিতি এবং পরিবর্তনের দাবিতে ওঠা স্লোগান প্রমাণ করছে যে, যে কোনও মুহূর্তে পরিবর্তন আসতে পারে। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, যারা নিজেদের অঙ্গদের পায়ের মতো অটল বলে দাবি করত, তাদের এখন আর রাজনৈতিক জমি নেই। কাশীর মানুষও বিজেপিকে ‘ডাবল জিরো’ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অখিলেশের আরও অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সমর্থন না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই বিজেপি বারবার ষড়যন্ত্র করছে। রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ করতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই সমাবেশে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢড়া-সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া SIR-এর বিরুদ্ধে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা দিল্লিতে এসে ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচিতে যোগ দেন। ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং SIR প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। মিন্টো রোড ও কনট প্লেসের সংযোগস্থল থেকে মিছিল শুরু হয়ে রামলীলা ময়দানে পৌঁছয়। এর আগে ৩১ অক্টোবর দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ‘ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।