New Delhi, Apr 16 (ANI): All India Trinamool Congress (AITC) MP Kakoli Ghosh Dastidar speaks in Lok Sabha during the Budget Session (2026-27) of Parliament, in New Delhi on Thursday. (Sansad TV/ANI Video Grab)
মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের অন্দরের টানাপড়েন নিয়ে জল্পনা থামছেই না। বিধানসভায় বিরোধী শিবিরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর এ বার লোকসভাতেও বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সেই আবহেই সমাজমাধ্যমে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা পোস্ট করে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakali Ghosh Dastidar)।

দলীয় সূত্রে নানা জল্পনা ছড়ালেও কাকলির দাবি, সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তন বা তাঁর নতুন কোনও দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর সাম্প্রতিক পোস্ট বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করছে।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কাকলি। ছাত্র-যুব রাজনীতি থেকে শুরু করে তৃণমূলের উত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। তবে প্রায় এক মাস আগে সেই পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee)। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সেখান থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে।
পরে কাকলি প্রকাশ্যেই নির্বাচন কৌশলী সংস্থা আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, দলের সাংগঠনিক ক্ষতির পিছনে ওই সংস্থার ভূমিকা রয়েছে। এর পর তিনি দলীয় বিভিন্ন পদ থেকেও সরে দাঁড়ান। একই সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। সেই ঘটনাকে ঘিরেও নানা রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়।
এমন পরিস্থিতিতে দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ৭ জুন কয়েক জন তৃণমূল সাংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, ওই বৈঠকের পর লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে সাংসদদের সই -সহ একটি চিঠি জমা পড়তে পারে। সেখানে লোকসভায় নতুন দলনেতা হিসেবে কাকলির নাম প্রস্তাব করা হতে পারে বলেও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি।
এই আবহেই শুক্রবার এক্স-এ কাকলির পোস্ট ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘আপনার কি মনে হয়, একটি রাজনৈতিক পরিবারের চারবারের সাংসদ, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থেকে চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তিনি নিজের কথা ভাবেন? এটি নীতির বিরুদ্ধে রায় এবং শাসনের ব্যর্থতা।’ বুঝিয়ে দিলেন, বর্তমানে বাংলার পরিস্থিতি তা পূর্বতন শাসকের, শাসনের ব্যর্থতা। নীতি ও আদর্শের জনতা এমন রায় দিয়েছে, তৃণমূলের এই পরিণতি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পোস্টে কোনও দলের নাম না থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অসন্তোষের ইঙ্গিত স্পষ্ট। ফলে লোকসভায় নেতৃত্ব বদলের জল্পনার মাঝেই কাকলির এই বার্তা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনাকে আরও উসকে দিল।