মাম্পি রায়, সাংবাদিক : গোমাংস, কোরবানি এবং গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণার দাবি ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এই আবহে বিতর্ক থেকে কিছুটা সরে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নকে সামনে আনতে চাইল বিজেপি। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দলের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের ভিন্রাজ্যে পাড়ি দেওয়া বন্ধ করা।

এক সাক্ষাৎকারে শমীক বলেন, “এখন বাবর, হুমায়ুন, জাহাঙ্গির বা আকবরকে নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমাদের বেশি চিন্তা পশ্চিমবঙ্গে কী ভাবে বিনিয়োগ আনা যায়, কর্মসংস্থান বাড়ানো যায় এবং শ্রমিকদের পরিযায়ী হওয়া থেকে কীভাবে রোখা যায় তা নিয়ে।” তাঁর দাবি, বিজেপির মূল লক্ষ্য রাজ্যকে শিল্পবান্ধব ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশে পরিণত করা।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, সম্প্রতি গোমাংস ও কোরবানি নিয়ে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বুধবার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর প্রকাশ্যে রাজ্য সরকারের অবস্থানের বিরোধিতা করেন। পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী সম্প্রতি যে জনবিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে, তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার মুসলিমদের গোমাংস না খাওয়ার নিয়ম করতে পারে, কিন্তু কোরবানি বন্ধ করা যাবে না।”
হুমায়ুনের দাবি, কোরবানির প্রথা প্রায় ১৪০০ বছরের পুরনো এবং তা ভবিষ্যতেও চলবে। তাঁর কথায়, “এই প্রথা পৃথিবী থাকা পর্যন্ত চলবে।”
একই সুর শোনা গিয়েছে ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা তোহা সিদ্দিকির গলায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশে গোমাংস রফতানি চলতে পারে, অথচ সাধারণ মানুষ ধর্মীয় রীতি মেনে পশু কোরবানি দিলে আপত্তি কেন? তোহার বক্তব্য, “আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। যদি গরু জবাই নিষিদ্ধ হয়, তা হলে গোটা দেশেই একই নিয়ম থাকা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে গোমাংস বিক্রি হয়, আবার কোথাও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে এক একটি রাজ্যে এক একরকম আইন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলেও মত তাঁর।
সব মিলিয়ে, ধর্মীয় অনুভূতি, আইন এবং রাজনৈতিক অবস্থান— এই তিনের সংঘাতে ফের উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। তবে বিজেপি নেতৃত্ব আপাতত শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নকেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চাইছে বলে স্পষ্ট।