বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: লঙ্কার ঝালেই কি এ বার মেতে উঠবে পুজোর মণ্ডপ? রান্নাঘরের পরিচিত শুকনো লঙ্কা দিয়েই দেবী দুর্গার প্রতিমা গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সোনারপুরের জয়মাল্য মণ্ডল। প্রতিমা তৈরির উপকরণে অভিনবত্ব আনতে গিয়ে তাঁর এই ব্যতিক্রমী ভাবনা এখন নজর কাড়ছে। কখনও তেজপাতা, কখনও দেশলাই কাঠি, আর এ বার শুকনো লঙ্কা—প্রতি বছর দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে নতুন কিছু করার নেশায় মেতে ওঠেন জয়মাল্য। তাঁর তৈরি এই বিশেষ দুর্গাপ্রতিমাই এ বার জায়গা পেতে চলেছে পাড়ার পুজোমণ্ডপে।

সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমেস্টারের ছাত্র জয়মাল্যর কাছে শিল্পচর্চা শুধুমাত্র শখ নয়, বরং নিজের কল্পনাকে বাস্তবের রূপ দেওয়ার এক বিশেষ মাধ্যম। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন জিনিস দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করার প্রতি তাঁর আগ্রহ। কখনও তৈরি করেছেন মডেল রেলগাড়ি, কখনও আবার এটিএম মেশিনের প্রতিরূপ। এর আগে মাটি দিয়ে দুর্গাপ্রতিমাও তৈরি করেছেন তিনি। কিন্তু এ বার চেনা পথ ছেড়ে সম্পূর্ণ অন্য কিছু করার ইচ্ছে জাগে তাঁর মনে।
সেই ভাবনার সূত্র ধরেই শুরু হয় নতুন উপকরণের খোঁজ। বাড়ির চারপাশে থাকা নানা জিনিস নিয়ে চলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। অবশেষে রান্নাঘরের শুকনো লঙ্কাকেই প্রতিমা তৈরির উপাদান হিসেবে বেছে নেন জয়মাল্য। তারপর ধীরে ধীরে নিজের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেন তিনি। বেশ কয়েক দিনের প্রচেষ্টায় তৈরি হয়ে ওঠে শুকনো লঙ্কার দুর্গাপ্রতিমা।
তবে এখনও সম্পূর্ণ হয়নি প্রতিমা তৈরির কাজ। বাকি রয়েছে দেবীর চক্ষুদান। জয়মাল্য জানিয়েছেন, মহালয়ার দিন প্রতিমার চোখ আঁকা হবে। তার পরই তাঁর হাতে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা নিয়ে যাওয়া হবে পাড়ার পুজোমণ্ডপে। সেখানেই দেবীর আরাধনা করবেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জয়মাল্যর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পিছনে রয়েছে পরিবারের উৎসাহও। ছোটবেলা থেকেই তাঁর সৃষ্টিশীল কাজে পাশে থেকেছেন বাবা-মা ও দিদি। পেশায় শিক্ষক বাবা রঞ্জিত মণ্ডল জানিয়েছেন, ছেলের কোনও প্রথাগত প্রশিক্ষণ নেই। নিজের আগ্রহ, কল্পনাশক্তি ও চেষ্টার জোরেই একের পর এক অভিনব সৃষ্টি করে চলেছে সে।
অন্য দিকে, দিদি ভূমিকা মণ্ডল জানান, দুর্গাপুজো এগিয়ে এলেই নতুন কিছু করার পরিকল্পনা শুরু করে দেয় জয়মাল্য। গত বছরের কাজের সঙ্গে এ বছরের সৃষ্টিতে যেন কোনও মিল না থাকে, সেই চেষ্টাই করে সে। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুকনো লঙ্কা দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছে এই অভিনব সৃষ্টি।
উৎসবের মরশুমে যখন শিল্পীরা মাটি, খড়, কাঠামো আর নানা সাজসজ্জার উপকরণ দিয়ে দেবী দুর্গাকে সাজিয়ে তোলেন, তখন জয়মাল্যর এই উদ্যোগ যেন সেই চেনা ধারণার বাইরে এক নতুন বার্তা দেয়। শিল্পের জন্য যে সব সময় দামি উপকরণ কিংবা প্রথাগত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না, নিজের ভাবনা আর অধ্যবসায় দিয়েও যে নতুন কিছু সৃষ্টি করা যায়, তা আরও এক বার দেখিয়ে দিলেন তিনি। এ বার তাই সোনারপুরের পুজোয় শুধু দেবী দুর্গার আরাধনাই নয়, নজর থাকবে এক তরুণের অভিনব সৃষ্টির দিকেও। শুকনো লঙ্কা দিয়ে তৈরি প্রতিমা কতটা আকর্ষণ করে দর্শনার্থীদের, এখন সেই অপেক্ষাতেই জয়মাল্য ও তাঁর পরিবার।