অগাস্ট মাস মানেই শুধু ক্যালেন্ডারের একটি মাস নয়। এই মাসটি ভারতের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, স্বাধীনতার গর্ব এবং নতুন স্বপ্ন দেখার এক আবেগময় অধ্যায়। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট যে স্বাধীনতার সূর্যোদয় হয়েছিল তার ৮০ বছর পূর্ণ হচ্ছে এই বছর। সেই ঐতিহাসিক দিনকে স্মরণ করে দেশজুড়ে আবারও উড়বে তেরঙা,বাজবে জাতীয় সঙ্গীত আর কোটি কোটি ভারতীয় একসঙ্গে শপথ নেবেন আরও উন্নত শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ভারত গড়ার। দিল্লির লালকেল্লা থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের রেড রোড। স্বাধীনতার এই উৎসব দেশজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে একই বার্তা বহন করবে। স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা ও ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলার অঙ্গীকার।

স্বাধীনতার আট দশকের এই যাত্রাপথে দেশ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, মহাকাশ গবেষণা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এবারের স্বাধীনতা দিবসেও দেশের উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গঠনের মতো বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। ৬জি প্রযুক্তির গবেষণা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্রিন হাইড্রোজেন, সৌরশক্তি ও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো উদ্যোগগুলিকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা রয়েছে। ২০২৬-এর স্বাধীনতা দিবসের সরকারি থিম এখনও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। একইভাবে ভাষিণী-এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বহু ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ, ইয়াং লিডার্স ডায়ালগ কিংবা অন্য কিছু বিশেষ কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও সেগুলি সরকারিভাবে নিশ্চিত নয়। প্রতি বছরের মতো এবারও স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
. লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন
. প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন
. জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হবে
. প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণ
.দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য অনুষ্ঠিত হবে
. স্বাধীনতা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

দিল্লির পাশাপাশি এবারের স্বাধীনতা দিবসে বিশেষ নজর থাকবে পশ্চিমবঙ্গের দিকেও। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের রাজ্যস্তরের প্রধান অনুষ্ঠান। ফলে এবারের আয়োজনকে ঘিরে প্রশাসনের বিশেষ প্রস্তুতি এবং নতুনত্বের ছাপ থাকার কথা জানানো হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে,

কলকাতার রেড রোডে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মূল অনুষ্ঠান শুরু। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও একাধিক সুসজ্জিত ট্যাবলো প্রদর্শিত হবে। এবারে মোট ১১টি ট্যাবলো প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্ত,স্বাস্থ্য,পরিবহণ,বিদ্যুৎ,পঞ্চায়েত-সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর তাদের উন্নয়নমূলক প্রকল্প তুলে ধরবে। অন্নপূর্ণা যোজনা, ভিবিজি রামজি প্রকল্প, আবাস যোজনা, মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রার মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বিষয়ও ট্যাবলোয় স্থান পেতে পারে।
এছাড়াও জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, কর্ম এবং অবদানকে তুলে ধরতে একটি পৃথক ট্যাবলো বা প্রদর্শনীর পরিকল্পনার কথাও জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতা পুরসভার নাগরিক পরিষেবা, পথ নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা সম্পর্কিত বিষয়গুলিও বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হতে পারে। অনুষ্ঠান চলাকালীন হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টিরও আয়োজন রাখা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত সূচি বা বিন্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে।