প্রশান্ত দাস, প্রতিনিধি, বীরভূম : ২০২৬-এর ভোটের আগে জনতার মনে কোনও অসন্তোষ জন্ম নিক, তা মোটেও চান না মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেজন্যই তো শুরু হয়ে গেল আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্প। সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করতেই এই উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তা সে রাস্তা, জল, বিদ্যুৎ যেকোনও সমস্যা হোক না কেন, বুথে বুথে ক্যাম্প করে সকলের সমস্যা মেটানো হবে। রাজ্যের মোট ৮০ হাজার বুথের মানুষের কাছে এভাবেই এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকার।

কিন্তু তাল কাটল সিউড়িতে লম্বদরপুর অঞ্চলে গিয়ে। সেখানে নাকি বিজেপি কর্মীদের সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে না। বিজেপির পঞ্চায়েত বলে তৃণমূলে পক্ষ থেকে কোন কাজ করে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এমনটাই চলে আসছে বলে জানাচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা। কর্মসূচিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কথা বলা হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে। কিন্তু এলাকায় কোনরকম কাজ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বিজেপি নেতাকর্মীদের। তাঁদের দাবি আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্প পুরোটাই লোক দেখানো।

আমাদের পাড়া আমাদের সমাধানের শেষদিনের কর্মসূচিতে সিউড়ি ১ নম্বর ব্লকের বিডিও উপস্থিত ছিলেন না। তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্বরা। এই নিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান আগে নাকি বিডিওর উপস্থিত থাকাটা বেশি প্রয়োজন ?

শিবিরে উপস্থিত ছিলেন সিউড়ি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল জানাচ্ছেন, গ্রামবাসীদের সকলের সমস্যা শোনা হয়েছে, সকলকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটা সরকারি কর্মসূচি। সরকারি নির্দেশ মেনেই হয়েছে। বিডিও উপস্থিত নেই বলে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচি বিডিও সাহেব উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর অনেকরকম কাজ থাকে। আসলে যারা সরকারি প্রকল্পের বিরোধিতা করে, তারাই কর্মসূচিতে বাধাদানের চেষ্টা করছে বলে জানাচ্ছেন তৃণমূল নেতা। যদিও তৃণমূল করেন না বলে অভিযোগ শোনাই হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন বিজেপি নেতাকর্মীরা।
জানা যাচ্ছে রাস্তার আলো, ছোট রাস্তার উন্নয়ন, কমিউনিটি হলের মেরামতি, বস্তিগুলোর শৌচাগারের উন্নয়ন, পানীয় জলের সমস্যা, জলাশয়ের সংস্কার, স্কুলের মেরামতি, সৌন্দর্যায়ন সহ সমস্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান মিলবে এই আমাদের পাড়া আমাদের সমাধানের ক্যাম্পে। কিন্তু সেখানেও যদি আমরা ওরা হয়, তাহলে কি আদৌ সমস্যার সমাধান মিলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।