প্রশান্ত দাস, প্রতিনিধি, বীরভূম : বাড়তি রোজগারের আশায় চেন্নাইয়ে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হল বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। তিন দিন পর সিউড়িতে ফিরল পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ। শোকে কাতর হয়ে পড়লেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা এবং এলাকাবাসী।
সিউড়ির লালকুঠিপাড়া ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। চেন্নাইয়ে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন সিউড়ির বাসিন্দা ৫২ বছরের শেখ সারিফ। তিন দিন আগেও অসুস্থ বোধ করেছিলেন তিনি, তবে চিকিৎসার পরও শেষরক্ষা হয়নি। চেন্নাইয়ের এক হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের অভিযোগ, যে কোম্পানিতে তিনি কাজ করতেন, তারা কোনোরকম সহযোগিতা করছে না। প্রয়াত শ্রমিকের মরদেহ চেন্নাইয়ের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে চেন্নাই থেকে সিউড়িতে পৌঁছতে সময় লাগে দীর্ঘ তিন দিন। অবশেষে বুধবার রাতে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছয়।

মৃত শেখ সারিফের ছেলে জানাচ্ছেন, ১৬ তারিখ শেষবার বাবার সঙ্গে কথা হয়েছিল। বাবা বলেছিলেন সুস্থ আছি। কিছুক্ষণ পরই মায়ের ফোন আসে, মা বলেন বাবা অসুস্থ বোধ করছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন বাবাকে। তারপর দেহ ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট বিপাকে পড়তে হয়েছে তাদের। কোম্পানি যদি সামান্য সহযোগিতা করত, তবে এতটা সমস্যা হত না। ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু এবং কোম্পানির উদাসীনতায় ক্ষোভে ফুঁসছেন মৃতের পরিবার ও পরিজনরা।

রুজিরুটির জন্য নিজের বাড়ি ছেড়ে ভিনরাজ্যে গিয়ে কাজ করেন হাজার হাজার শ্রমিক। তাঁদের কষ্টের ছবিটা আরও একবার সামনে এনে দিন সিউড়ির বাসিন্দা শেখ সারিফের মৃত্যুর ঘটনা। এখন প্রশ্ন হল, পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব নিয়ে নিয়োগকর্তারা কতটা সচেতন? যে কোম্পানিতে কাজ করতেন সেই কোম্পানির সহযোগিতাও মিলছে না। প্রশাসনের থেকে কি সহযোগিতা মিলবে ,তা ভেবেই সন্দিহান মৃতের পরিবারের সদস্যরা।
কয়েকদিন আগে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগ উঠে আসছিল ভিনরাজ্যে। রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই বলেই শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে যেতে হচ্ছে বলে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করছিলেন বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা। ঘটনায় সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন বাংলার শ্রমিকদের দক্ষতার জন্যই অন্যান্য রাজ্যে তাঁদের চাহিদা এত বেশি। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ‘শ্রমশ্রী’ নামক একটি পোর্টাল তৈরির কথাও ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছিলেন সেখানে নাম নথিভুক্ত করলেই পরিচয়পত্র পাবেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। রাজ্যেই যদি কর্মসংস্থান হয়, তাহলে বাংলার শ্রমিকদের আর ভিনরাজ্যে যেতে হবে না। আর হেনস্থার শিকার হতে হতে হবে না সেই পরিযায়ী শ্রমিকদের এবং তাঁদের পরিবার পরিজনদের।