স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : একেবারে দু দুটো আসনে লড়াই। কী হুমায়ুন সাহেব, ভয় পেয়েছেন নাকি। এটা না হলে ওটা, এই সমীকরণেই কী রেজিনগর ও বেলডাঙা এই দুই আসনে প্রার্থী হিসাবে নিজের নাম ঘোষণা করলেন। কেন নতুন দল খুলতে হল তাঁকে। নতুন দল যদি মুখ থুবড়ে পড়ে তাহলে কি হুমায়ুন কবীর রাজনৈতিক কেরিয়ারে ইতি টানবেন। রাজনীতি ছেড়ে কী আবার ব্যবসায় মন দেবেন। যদিও হুমায়ুন কবীর নিজেকে ভাগ্যবানই মনে করে। কেন ভাগ্যবান মনে করেন সেটাও খোলসা করেছেন খোলামঞ্চে। দল ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি অনেক মান অভিমানের কথা বলে ফেলেছেন। জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর নিজেই। আর এই দলেই হুমায়ুনের ছড়াছড়ি। বাকি হুমায়ুনরা কারা। কেমন হবে হুমায়ুন কবীরের আগামীর ভবিষ্যত?

অবশেষে ভূমিষ্ঠ হল হুমায়ুন কবীরের নতুন দল। জনতা উন্নয়ন পার্টি। নামটা বেশ ইন্টারেস্টিং। জনতা আবার তার সঙ্গে উন্নয়ন। যতই মুখে সংখ্যালঘুদের কথা বলুন না কেন দলের নাম তিনি ভেবেচিন্তেই রেখেছেন। হুমায়ুন সাহেব ভালোভাবেই জানেন শুধুমাত্র সংখ্যালঘু ভোটকে টার্গেট করে ভোট বৈতরনী পেরোতে পারবেন না। তাই হয়তো দলের নামে বেশ সাবধানী পদক্ষেপ নিয়েছেন। দল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ইস্তেহার প্রকাশ করে কয়েকজন প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেন। হুমায়ুন কবীরের দল আর সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় হুমায়ুনদের ছড়াছড়ি। তিনি ছা়ড়াও তাঁর দলে রয়েছেন আরও দুই হুমায়ুন। একজন ডাক্তার আরেকজন পেশায় ব্যবসায়ী। ভগবানগোলা থেকে যে হুমায়ুন কবীর লড়বেন তিনি ডাক্তার হুমায়ুন কবীর। রানিনগর থেকে যিনি লড়বেন সেই হুমায়ুন কবীর পেশায় ব্যবসায়ী। আর হুমায়ুন কবীর নিজেই বেলডাঙা ও রেজিনগরের প্রার্থী হচ্ছেন। রেজিনগরে ২০১৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন তিনি। তাই রেজিনগরে মাটিকে তিনি চেনেন তাই ওই আসনেই তিনি লড়বেন। অন্যদিকে বেলডাঙাতেও প্রার্থী হবেন তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর গ্রামীণে প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণা করেছেন ইব্রাহিম হাদির। মালদার বৈষ্ণবনগর থেকে মুস্তেরা বিবি, মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে মণীষা পাণ্ডে। যদিও দল ঘোষণার আগে ১৩২,১৩৫ আসনে লড়ার হুঙ্কার দিলেও এদিন এই বিষয়ে কিছু খোলসা করেননি হুমায়ুন সাহেব। বোধহয় তিনি জল মাপছেন। যদিও বেলডাঙায় যেভাবে বাবরি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তরস্থাপনে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গিয়েছিল সেই আবহ দেখা গেল না দল ঘোষণার দিন। ঝড় ওঠার পূর্বাভাস ছিল কিন্ত ঝড় উঠল কি?
কেন হঠাত করে নিজের দল খুলতে হল হুমায়ুন কবীরকে। কেনই বা একলা চলো নীতি নিতে হল তাঁকে। মঞ্চে উঠে তিনি যেভাবে স্মৃতিচারণ করলেন, দুর্নীতির পর্দাফাঁস করলেন তাতে করে কিছুটা হলেও আঁচ করা গেল তাঁর রাগের কারণ। হুমায়ুন কবীরের মুখে শোনা গেল প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন থেকে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের নাম। হুমায়ুন কবীর অধীররঞ্জনের যে একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন, তা কারো অজানা নয়। অধীর চৌধুরীর হাত ধরেই তাঁর উত্থান। কিন্তু কংগ্রেস ছাড়ার কারণ হিসাবে তাঁর মুখে শোনা গেল অধীর চৌধুরীর নাম। অধীর চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে জাত তুলে অপমান তিনি মেনে নিতে পারেননি। তাই নাকি কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষুন্ন করেছেন। জাত্যাভিমান। সংখ্যালঘু মন পেতে যা হুমায়ুনের হাতিয়ার। ফিরহাদ হাকিমেরও কথা বললেন। সেখানেও সেই জাতের দোহাই। ফিরহাদ হাকিমের বাবা ও মায়ের জাত নিয়েও বলতে শোনা গেল তাঁকে।
হুমায়ুনের নিশানা থেকে বাদ গেলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীদের সুরে হুমায়ুন কবীর বললেন খেলা,মেলা করে বাংলার মানুষের বুকে ঋণের বোঝা চাপিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলকে মুর্শিদাবাদ থেকে শূন্য করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বসলেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর হিজাব পড়ে নমাজের মঞ্চে যাওয়া ও মুসলিম তোষণের মিথ্যা বুলি আওড়ানোরও কটাক্ষ করেন তিনি। তিনি বৈষ্ণব পদাবলীর কাব্যভাষাকে উদ্ধৃত করে মুখ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারির সুরে বলেন তোমাকে বধিবে যে গোকূলে বাড়িছে সে। যদিও হুমায়ুন সাহেব ভুল করে উক্তিটি রবীন্দ্রনাথের বলে উল্লেখ করেছেন। সে যাই হোক, কিন্তু উক্তি বলে কী বোঝাতে চাইলেন ভরতপুরের এই বিধায়ক।
হুমায়ুন সাহেবের হুঁশিয়ারির মুখে পড়লেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীও। সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল থেকে বিজেপি, কংগ্রেস কেউই বাদ গেল না হুমায়ুন কবীরের নিশানা থেকে। যদিও হুমায়ুনের এই নতুন দল তৈরি নিয়ে নানা মুনির নানা মত। তৃণমূলের দাবি বিজেপির বি টিম জনতা উন্নয়ন পার্টি অন্যদিকে বিজেপির দাবি তৃণমূলের সঙ্গে আঁতাত রয়েছে হুমায়ুন কবীরের। কিন্তু হুমায়ুন যে কোন ফুলের মালি তা তিনিই জানেন।