Lionel Messi: মোসির ইভেন্টে বিশৃঙ্খলা নিয়ে আদালতে কী বললেন শাসক ও বিরোধী দলের আইনজীবীরা ?
ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, সাংবাদিক: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে দেখতে না পেয়ে যেভাবে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটনা ঘটেছে, পানীয় জল বিতর্ক, আর্থিক ক্ষতিপূরণ তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে করা তিনটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ।

বিরোধী দলনেতার পক্ষে আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানের জন্য অগাস্ট মাস থেকেই ব্যাপক প্রচারের আয়োজন করা হয়। শতদ্রু দত্ত প্রচার করেন, যুবভারতীতে মেসি আসবেন। তারপর সেখানে কিছুসময় বল নিয়ে তিনি খেলবেন। তারপর তাঁকে সংবর্ধনায় দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে দমকল মন্ত্রী সুজিত বোস মেসিকে দিয়ে একটা ৭০ ফুটের মূর্তির উন্মোচন করান। তারপর হায়াত হোটেলে মেসিকে নিয়ে টাকার বিনিময়ে ছবি তোলার ব্যাবস্থা করা হয়। ফলে তাঁর মাঠে পৌঁছতে ৪০ মিনিট দেরি হয়ে যায়। আয়োজক শতদ্রু দত্ত জানান, তিনি মাত্র ১৫০ টির মতো পাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আরও ৩০০-এর বেশি পাস দেওয়া হয় বিভিন্ন ব্যাক্তিকে। আসলে আয়োজক শতদ্রু দওকে সামনে রেখে রাজ্যের শাসকদল এই সম্পূর্ণ কাজটা করিয়েছে।
ফলে সাধারণ দর্শক যাঁরা টাকা দিয়ে দেখতে এসেছিলেন তারা কিছুই দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। মেসিকে দ্রুত মাঠের বাইরে নিয়ে চলে যাওয়া হয়।
বিধাননগর দক্ষিণ থানার পক্ষে সাব ইনসপেক্টর দীপঙ্কর দত্ত বলেন, ৬.৩০ মিনিট নাগাদ এফআইআর দায়ের করা হয়। শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়।
শতদ্রুর আইনজীবী বলেন, সব থেকে উদ্বেগের বিষয় হল, ৭-৮ জন দর্শককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় রাজ্যের শাসকদলের একাধিক মন্ত্রীর যে যোগ রয়েছে, সে ব্যাপারে পুলিশের দায়ের করা এফআইআরে কোন উল্লেখ নেই।
স্টেডিয়ামের ভিতরে জলের বোতল নিয়ে যাওয়ার অনুমতি না থাকলেও ২০০ টাকা করে ভিতরে জলের বোতল বিক্রি করা হয়েছে।
এই এফআইআর আসলে লোক দেখানো। প্রভাবশালীদেরকে আড়াল করার হাতিয়ার হিসাবেই এটা করা হয়েছে। যারা ভিতরে জড়িত তাদেরকে আড়াল করার প্রচেষ্টা। এই পুরো ঘটনার ভিতরে আর্থিক দুর্নীতি রয়েছে। সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে মেসিকে আগাম ৬৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। কোথা থেকে সেই টাকা দেওয়া হল? এই অনুষ্ঠানে মাঠের ভিতরে যা হয়েছে তা আসলে মাঠের বাইরের স্ক্যামের ফল।

হায়াত হোটেলের অনুষ্ঠান পুরোটাই ম্যানেজ করেছেন মন্ত্রী সুজিত বসু। আর যুবভারতীতে ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। যেহেতু রাজ্যের মন্ত্রীরা যুক্ত রয়েছেন এখানে, তার জন্য এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় মামলাকারী ময়ূখ বিশ্বাসের আইনজীবী জানান,
১৩ ডিসেম্বরের সিএজিকে দিয়ে ইভেন্টের অডিট করা হোক। সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেটিং অথরিটিকে দিয়ে এর তদন্ত করা এবং অডিট করা হোক।
অনুষ্ঠানের টিকিটে যে সিল মারা হয়েছে সেটা রাজ্যের ক্রীড়া দফতরের। তার মানে পুরো অনুষ্ঠান আসলে রাজ্যের। সমস্তটার পিছনে রাজ্য সরকার রয়েছে। এর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ইডিকে দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
একটা চ্যারিটি ফুটবল ম্যাচের কথাও বলা হয়েছিল। টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কে ফেরত দেবে টাকা?
তৃতীয় মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠান করার নামে সাধারণ মানুষের টাকার নিয়ে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি করা হয়েছে। একটা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কমিটি ডিজিপিকে সাসপেণ্ড করেছে। কোন রাজ্যের এজেন্সি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারে? এর যেকোনো নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তিনি বলেন, পুলিশ স্ব:তপ্রণোদিত এফআইয়ার করেছে। দর্শকদের উপর সমস্ত দায় ঠেলেছে। গোটা বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।
রাজ্যের তিনজন আইপিএস অফিসারকে নিয়ে তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। কিন্তু রাজ্যের মন্ত্রীরা যুক্ত। এর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে না।
সব শুনে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতার জন্যই ক্ষমা চেয়ে প্রাক্তন বিচারপতিকে দিয়ে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। অনুষ্ঠানে শাহরুখ খান, সৌরভ গাঙ্গুলি, লিয়েণ্ডার পেজের মত ব্যাক্তিরা যে থাকবেন তা লিখিত ভাবে জানানো হয়নি পুলিশকে। ইমেল করে জানানো হয়। যুবভারতীর ভিতরে জলের বোতল বা পাউচের অনুমতি নেই। মেসিকে জেড ক্যাটেগরি নিরাপত্তা দেওয়া হয় স্বারাস্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে। কতজন নিরাপত্তা রক্ষী , না থাকবে সে ব্যাপারে কিচ্ছু জানানো হয়নি।
শতদ্রু দত্ত মোট ৪০০ জনকে পাস দিয়েছিলেন। ২৭টি পাস দেন যারা মেসির একেবারে কাছে যেতে পারবেন। হায়াত হোটেল, যুবভারতী এবং এয়ারপোর্ট মিলে ২৭টি পাস দেওয়া হয়েছে।বাকি ৩৭৩টি ডিউটিপাস যারা মাইক, প্যাণ্ডেল ডেকোরেটর দেখাশোনা করবে।
আই বি ওয়েস্ট বেঙ্গল ১২ জনকে পাশ দিয়েছিলেন যার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন।
* সোশাল মিডিয়া মনিটরিং সেলকে ৬টি এবং সুপিরিয়র পুলিশ আধিকারিকদের ২৫ টি পাশ দেওয়া হয়। ফলে টোটাল ৮২টি পাশ হয় ক্লোজ প্রক্সিমিটির।
মোহন বাগান বনাম ডায়ামণ্ড হারবার একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল। ১১.২০ তে মেসি আসেন।
একটি কমিশন গঠন করা হয় প্রাক্তন বিচারপতি অসীম রায়, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নিয়ে।
রাজ্যকে তদন্ত করতে সময় দিতে হবে। এখনই তাদের পক্ষে কে দোষী এবং কে নয় তা বলা সম্ভব নয়।কমিশন প্রাথমিকভাবে ১৫ তারিখ একটি রিপোর্ট দেয়। তার ভিত্তিতে ডিজিপি অনিশ সরকারকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার দায়িত্বে গাফিলতির জন্য সাসপেণ্ড করা হয়েছে। এছাড়াও একাধিক পুলিশ আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
পিটিশনের বেশিরভাগটা জুড়ে সংবাদমাধ্যমের খবরের ভিতিতে অভিযোগ। সস্তা আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা হয়েছে।
বিচারপতি পাল- অভিযোগ করা হচ্ছে যে এফআইয়ার করা হয়েছে তা স্টেডিয়ামের ভিতরে যা হয়েছে তার ভিত্তিতে। কিন্তু বাইরে যা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ সে ব্যাপারে রাজ্যের কি মত?
তারপর রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। এগুলো শুনতে খুব ভালো, মিডিয়াকে চট করে আকর্ষণ করা সম্ভব হয়।
সবমিলিয়ে সবপক্ষের মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ।