দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন বিএলওরা। আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া হবে ভোটারদের।
বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আজ থেকে গোটা বাংলায় শুরু হল এসআইআর। এসআইআর শুরু হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন বিএলওরা। মঙ্গলবার থেকে শুরু করে আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া হবে ভোটারদের। প্রযুক্তিগত সমস্যা মিটে গেলে রাজ্যের বাইরে থাকা ভোটাররা অনলাইনেও ফর্ম ভরতে পারবেন। এর পরে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। এই তালিকা নিয়ে অভিযোগ থাকলে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে অভিযোগ শোনা এবং খতিয়ে দেখার কাজ। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। মঙ্গলবার সকাল থেকে ডায়মন্ড হারবার ,বারুইপুর ,সোনারপুর নামখানা, কাকদ্বীপ সহ প্রতিটি জায়গায় সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছাচ্ছে বিএলওরা। এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য এবং নথি খতিয়ে দেখছেন তারা। পাশাপাশি ফর্ম ফিলআপের জন্য ভোটারদের সহযোগিতা করছেন বিএলওরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে রাজ্যে ৪১,৮০০ বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ-২)-এর নাম নথিভুক্ত হয়েছে।

তবে কোন রাজনৈতিক দল কত এজেন্ট দিয়েছে এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সিইও দফতর। এ বিষয়ে মতিউর রহমান নামে বারুইপুর পৌরসভার এক বাসিন্দা জানান, “আজ থেকে গোটা বাংলায় শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। আজ আমাদের বাড়িতে বিএলও আসেন এবং একটি ফর্ম দিয়ে যান পরিবারের সদস্যদের হাতে। প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আমরা সাহায্য করি এবং ফর্ম ফিলআপ করে বিএলওর হাতে তুলে দিয়েছি আমরা। এক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হয়নি। ফর্ম ফিলাপের ক্ষেত্রে যেখানে অসুবিধা হয়েছে সেখানে বিএলও ম্যাডাম সমস্যাগুলি সমাধান করেছেন।“

এ বিষয়ে সীমা সর্দার নামে বারুইপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএলও বলেন, “আজ বিডিও অফিস থেকে দশটি ফর্ম দেওয়া হয়েছে। ১০ টি ফর্ম আমরা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। পর্যাপ্ত পরিমাণে ফর্ম থাকলে দ্রুততার সাথে কাজ এগোবে। এখনও পর্যন্ত কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি আমাদের। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিএলএ টুদের আমাদের সঙ্গে থাকার কথা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তারা আসেননি। তাই আমি কাজ শুরু করে দিয়েছি। মূলত ২০০২-এর ভোটার লিস্টে যে সকল ব্যক্তিদের নাম রয়েছে সে সকল ব্যক্তিদের কোনও নথির চাওয়ার প্রয়োজন নেই। যে সকল ব্যক্তিদের ২০০২-এর ভোটার লিস্টে নাম নেই সে সকল ব্যক্তিদের থেকেই নথি নেওয়া প্রয়োজন হচ্ছে। আপাতত পর্যাপ্ত পরিমাণে ফর্ম না থাকার কারণে দশটি ফর্ম নিয়েই কাজ শুরু করেছি। আগামীদিনে ফর্মের সংখ্যা বাড়বে এবং কাজ দ্রুততার সাথে এগোবে বলে আশাবাদী আমরা।“