বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আজকের বিশ্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ক্যাম্পাসগুলোতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ধারণা খুব প্রয়োজন। তাই অভিনব উদ্যোগ দেওয়া হল গোবিন্দপুর রত্নেশ্বর হাই স্কুলে। সুদূর তাইওয়ান থেকে ফু জেন ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছাত্রীরা ও শিক্ষিকারা পৌঁছলেন স্কুলে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক মিথস্ক্রিয়া ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের শূন্য বর্জ্য এবং সার্কুলার ইকোনমি প্রোগ্রাম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হল।

১১ জনের এই তাইওয়ান ইউনিভার্সিটির যে প্রতিনিধি ছাত্রদের বর্জ্য পদার্থগুলোকে কীভাবে পুনর্ব্যবহার করা যায়, সেই সম্পর্কে ধারণা দেয়। স্কুলে রাখা ডাস্টবিনের নোংরাকে প্রক্রিয়াজাত করে গাছের সার এবং নানানরকম জিনিস তৈরির জ্ঞান দেওয়া হয়। এরপর তাদেরকে নিয়ে স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা মিলে তাদেরকে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রথমে জাতীয় সংগীত গায় পড়ুয়ারা। তারপর তাইওয়ানের জাতীয় সংগীতও গাওয়া হয়। এই অনুষ্ঠান যে শুধু তাইওয়ান থেকে আসা প্রতিনিধি দলকে মুগ্ধ করেছে তা নয়, গোবিন্দপুর রন্ধেস্বরা হাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা নাচ-গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিকে একেবারে জাকজমকপূর্ণ করে তোলে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলের তরুণ ছাত্ররা যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন একে অপরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে পারে।
গ্লোবাল নেটওয়ার্ক: বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা সেমিনার, ওয়ার্কশপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে পরিবেশবান্ধব প্রজেক্ট তৈরি করতে পারে।
সাংস্কৃতিক বিনিময়: উন্নত দেশগুলো কীভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করছে, সেই প্রযুক্তি ও আইডিয়া আমাদের দেশের তরুণরা নিজেদের ক্যাম্পাসে প্রয়োগ করতে পারে।
২. শূন্য বর্জ্য ক্যাম্পাস (Zero Waste Campus)
শূন্য বর্জ্য বা ‘জিরো ওয়েস্ট’ মানে এই নয় যে কোনো আবর্জনা তৈরিই হবে না। এর আসল উদ্দেশ্য হলো বর্জ্য এমনভাবে কমানো যাতে কোনো কিছুই ল্যান্ডফিল (আবর্জনার স্তূপ) বা পুড়িয়ে ফেলতে না হয়।
সিঙ্গেল ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন: ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন বা ক্যাফেটেরিয়াতে প্লাস্টিকের কাপ, প্লেট বা স্ট্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
বর্জ্য পৃথকীকরণ: ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় আলাদা ডাস্টবিন রাখা (যেমন: পচনশীল, অপচনশীল এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্যের জন্য)।
৩. সার্কুলার ইকোনমি বা বৃত্তাকার অর্থনীতি (Circular Economy)
প্রচলিত ‘নিন-বানান-ফেলুন’ (Take-Make-Waste) পদ্ধতির বদলে সার্কুলার ইকোনমি বলে—যা কিছু তৈরি হবে, তা যেন আবার কোনো না কোনোভাবে ব্যবস্থার মধ্যে ফিরে আসে।
তরুণদের এই ধারণার সাথে অভ্যস্ত করতে স্কুলে যে ৩টি ধাপের একটি চক্র তৈরি করা যায়:
ডিজাইন ও সচেতনতা :-
ক্যাম্পাসে যেকোনো জিনিস কেনার সময় বা ব্যবহারের সময় দীর্ঘস্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব পণ্য বেছে নেওয়া। তরুণদের মাঝে রিসাইক্লিংয়ের গুরুত্ব নিয়ে ক্যাম্পেইন করা।
পুনর্ব্যবহার ও মেরামত (Reuse & Repair)
বই, ল্যাপটপ, বা ল্যাবের জিনিসপত্র ফেলে না দিয়ে মেরামত করে আবার ব্যবহার করা। শিক্ষার্থীরা পুরোনো বই বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস একে অপরের সাথে অদলবদল (Swap) করতে পারে।
কম্পোস্টিং ও রিসাইক্লিং (Composting & Recycling)
ক্যান্টিনের বেঁচে যাওয়া খাবার থেকে ক্যাম্পাসের বাগানের জন্য জৈব সার (Compost) তৈরি করা এবং প্লাস্টিক, কাগজ বা মেটাল রিসাইক্লিং সেন্টারে পাঠানো।
তরুণদের ভূমিকা: তরুণরাই পারে স্কুল, কলেজ ও ক্যাম্পাসে “গ্রিন ক্লাব” বা পরিবেশ ক্লাব গঠন করে এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে। আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সাথে মিলে তারা এমন সব উদ্ভাবনী প্রজেক্ট তৈরি করতে পারে, যা পুরো সমাজকে বদলে দিতে সক্ষম।