মাম্পি রায়, সাংবাদিক : এক দিনেই কলকাতা পুলিশের জালে জোড়া মাওবাদী নেতা। মঙ্গলবার এক দিকে ঝাড়খণ্ডের বরাকর আঞ্চলিক কমিটির (বিওআরসি) কথিত মাওবাদী নেতা শ্রদ্ধা বিশ্বাস (Shraddha Biswas) ওরফে বেলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অন্য দিকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন বর্ষীয়ান মাওবাদী নেতা মাধাই পাত্র।

পুলিশ কমিশনারের দাবি, দীর্ঘদিন সশস্ত্র সংগ্রামের পথে থাকার পরে অবশেষে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন মাওবাদী নেতা মাধাই পাত্র। মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। হুগলির জঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা মাধাই ২০০৭ সালে একবার গ্রেফতার হয়েছিলেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরে তিনি ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা বনাঞ্চলে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
মাধাইয়ের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে মাওবাদী পার্টির আদর্শ ও রীতিনীতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তাঁর কথায়, ‘সমাজ অনেক বদলে গিয়েছে, সেই সব বিবেচনা করেই আমি মূল স্রোতে ফিরতে চেয়েছি।’
শ্রদ্ধা বিশ্বাস দীর্ঘ দিন ধরে ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলা, পূর্ব সিংভূম এবং পশ্চিম সিংভূম এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে তিনি সক্রিয় ভাবে সংগঠনের কাজ করছিলেন বলে তদন্তকারীদের অনুমান। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
অজয় নন্দ জানান, এর আগেও ২০০৪-০৫ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলপাহাড়ি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ফের সংগঠনের কাজে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পুলিশ কমিশনারের কথায়, “তিনি কলকাতায় একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাই।” তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় অন্য মাওবাদী সদস্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর মাথার দাম ১৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ।

আবার পৃথক ঘটনায় সমাজমাধ্যমে ইভিএম কারচুপি এবং ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়ম সংক্রান্ত একাধিক পোস্ট করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বাংলাপক্ষের প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে। পুলিশ কমিশনারের দাবি, ওই পোস্টগুলির জেরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছিল। এ নিয়ে জেলা নির্বাচন আধিকারিকের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই ভিত্তিতেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
অজয় নন্দ জানান, গর্গকে দু’বার নোটিস পাঠিয়ে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাজির না হওয়ায় তাঁকে কলকাতা থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন সম্প্রদায়কে নিয়ে ‘বিভাজনমূলক’ মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, সমাজে বিভেদ সৃষ্টির মতো পোস্ট বারবার করা হচ্ছিল। সেই অভিযোগেও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।