New Delhi, Jul 29 (ANI): Lok Sabha LoP Rahul Gandhi at the Parliament premises during the ongoing Monsoon Session, in New Delhi on Wednesday. (ANI Photo/Naveen Sharma)
নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রকে আরও এক দফা আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার লোকসভা মুলতুবি হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে যে পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে, তার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে জবাব দিতেই হবে। তাঁর কথায়, এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয় ‘দোষী’, নয় ‘অযোগ্য’— এর বাইরে তৃতীয় কোনও সম্ভাবনা নেই।

রাহুলের বক্তব্য, “দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই ওই পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে ক্ষেত্রে তিনি দায়ী। দ্বিতীয়ত, যদি তিনি জানতেই না পারেন যে গুলি চালানো হবে, তা হলে তিনি নিজের দফতর সামলাতে অযোগ্য। এর বাইরে আর কোনও ব্যাখ্যা হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানতেই না পারেন কী ঘটছে, তা হলে সেটাই তাঁর অযোগ্যতার প্রমাণ। আর যদি তিনি নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তা হলে ঘটনার সম্পূর্ণ দায় তাঁরই।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সময় অমিত শাহের লোকসভায় উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। রাহুল বলেন, “তিনি সংসদে এলেন না কেন? যদি তাঁর কোনও ভূমিকা না থাকে, তা হলে সংসদে এসে স্পষ্ট করে বলুন তিনি কোনও নির্দেশ দেননি। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব দেওয়া উচিত।”
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করা তাঁর সাংবিধানিক অধিকার। “সংসদে কথা বলার অধিকার আমার রয়েছে। সেই অধিকার আমাকে দিতে হবে,” বলেন রাহুল।
পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে লোকসভায় আলোচনা চলাকালীনই এই বিতর্কের সূত্রপাত। বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিষয়ে মুখোমুখি হওয়ার সাহস নেই। তাঁর এই মন্তব্যে তীব্র আপত্তি জানায় শাসকদল।
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাহুলের অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও প্রমাণ ছাড়াই একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ করা দায়িত্বজ্ঞানহীন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও বিরোধী দলনেতাকে সতর্ক করে বলেন, তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কোনও ব্যক্তিগত অভিযোগ সংসদে করা উচিত নয়।
এর আগে রাহুলের বক্তৃতায় ব্যবহৃত একটি শব্দবন্ধ নিয়েও তীব্র বিক্ষোভ হয়। কিরেন রিজিজুর আপত্তির পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও বিষয়টি স্পিকারের নজরে আনেন। পরে স্পিকার বিতর্কিত মন্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। হট্টগোলের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়।