মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভোট গণনাকে ঘিরে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হল রাজ্যে। গণনাকেন্দ্রের ব্যবস্থা ও পরিচালনা নিয়ে জোড়া মামলা দায়ের করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও এই দুই আবেদন গ্রহণ করে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। আজ শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথম মামলায় আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভোট গণনাকেন্দ্রে সুপারভাইজার হিসেবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর দাবি, এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত কমিশনের নেওয়ার এক্তিয়ার নেই এবং এতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি আদালতের কাছে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন জানান, যাতে গণনা প্রক্রিয়া আরও নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।
দ্বিতীয় মামলায় আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য গণনাকেন্দ্রের হঠাৎ স্থান পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটের আগে এভাবে গণনাকেন্দ্র বদল করা হলে প্রশাসনিক বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং রাজনৈতিক পক্ষগুলির মধ্যে সন্দেহের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কেন এবং কী কারণে এই পরিবর্তন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
আগামী ৪ মে রাজ্যে ভোট গণনা। তার আগেই এই জোড়া মামলা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ইতিমধ্যে রাজ্যে দুই দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে—প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই এই দুই দফার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমানো। ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভোট গণনা হবে মাত্র ৮৭টি কেন্দ্রে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই জেলা ভিত্তিক গণনাকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রের নির্দিষ্ট ঠিকানাও জানানো হয়েছে।
তুলনামূলকভাবে দেখা গেলে, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গণনাকেন্দ্র ছিল ৯০টি। ২০২১ সালে তা বাড়িয়ে ১০৮ করা হয়েছিল। তবে এবারে সেই সংখ্যা কমিয়ে ৮৭-তে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটেই আদালতে দায়ের হচ্ছে একাধিক মামলা । আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশে এই বিতর্কের কী সমাধান হয়, সেটাই এখন দেখার।