বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। তার প্রভাব পড়তে পারে প্রতিবেশী নেপালেও। ভারী বৃষ্টি, ঝড়, তুষারপাত থেকে শুরু করে বন্যা ও তুষারধসের আশঙ্কায় আগামী ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশ জুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করল নেপালের জাতীয় বিপর্যয় ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ)। পর্যটক এবং সাধারণ মানুষকে পাহাড়ি ও হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় যাতায়াত এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নেপালের আবহাওয়া দফতরের বিশেষ পূর্বাভাসের ভিত্তিতে মঙ্গলবার এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেটির। তার প্রভাব নেপালে শুরু হতে পারে ২৯ অক্টোবর রাত থেকে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেপালের সাতটি প্রদেশের মধ্যে কোশী, বাগমতী, মধেশ, গণ্ডকী এবং লুম্বিনীতে প্রভাব পড়তে পারে সবচেয়ে বেশি। ৩০ ও ৩১ অক্টোবর এই অঞ্চলগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও প্রবল বৃষ্টিতে স্থানীয় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কর্ণালী ও সুদূরপশ্চিম প্রদেশেও বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ হিমালয় ও উঁচু পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে। সেখানে ভারী তুষারপাত, তুষারঝড় এবং তুষারধসের আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দুর্গম জনপদ, পাহাড়ি বসতি এবং ট্রেকিংয়ের পথে বিপদ বাড়তে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যটকদের আপাতত উঁচু পাহাড়ি এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। যাঁরা ইতিমধ্যেই সেখানে রয়েছেন, তাঁদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নদীর তীরবর্তী এবং বন্যাপ্রবণ এলাকাতেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়ক ও বিমানপথে যাতায়াত এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার সর্বশেষ খবর জানতে সরকারি পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তার উপর নজর রাখার আবেদন জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নেপালে আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ১১৫৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তার জন্যও একাধিক হেল্পলাইন চালু রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতির উপর নজর রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।